শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৪, থমথমে পরিস্থিতি
  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০৯-২০২৬ ইং
দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

দর্শনায় ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে লোক ভাড়া করে চাঁদা দাবি এবং সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আমিনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে দর্শনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন- জেলা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট (৩৮), যুবদল নেতা মো. সাগর (৪৫), হুমায়ুন (৪৫) ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আমিন (২৩)।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে যুবদল নেতা মোমিনকে দর্শনা থানা পুলিশ আটক করে। তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে দায়ী করে ক্ষুব্ধ হন কয়েকজন। এর জের ধরে গতকাল শুক্রবার রফিকুল ইসলামের অফিসে গিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।


তবে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। তার দাবি, দর্শনা ফিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রায়হান হোসেন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে জোরপূর্বক তার ব্যবসা ছিনিয়ে নেন।


রফিকুল ইসলাম বলেন, পরে মদিনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তাকে ফোন করে পাথরের কাগজপত্র পাঠিয়ে কাজ করতে বলেন। এরপর রায়হান হোসেন তাকে হাবু মিয়ার অফিসে ডেকে কোটেশন কম দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় তিনি নিজের ব্যবসা নিজের মতো করে করার কথা জানান।


রফিকুলের অভিযোগ, এরপর থেকেই রায়হান হোসেন কিছু লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার চাঁদা দাবি করেন। শুক্রবার সকালে জনি নামে একজন তাকে ফোন করে টাকা না দিলে অফিস ও বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


রফিকুল ইসলামের দাবি, এর কিছুক্ষণ পর ব্রাইট গ্রুপের মোমিন, আমিনসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার অফিসে হামলা চালায়। এসময় অফিসে থাকা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং দুটি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া এসি, টিভি, ক্যামেরা, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নগদ টাকা ও মালামাল মিলিয়ে তার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রফিকুল। তিনি আরও বলেন, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রায়হান হোসেন বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ যুবদল নেতা রকিবুল ইসলাম ব্রাইট বলেন, ‘আমার কোনো লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেনি। আমাকে ও আমার দলের ছেলেদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’


দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ব্রাইট ও আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’


চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘চাঁদা দাবি করে রফিকুল ইসলামের বাসাবাড়ি ও অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে, ঘটনার পর দর্শনার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন রয়েছে। হামলার পেছনে মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা দাবি নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে- তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

উসকানিমূলক বক্তব্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা