চুয়াডাঙ্গায় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩৩ উৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল ৯টায় মিষ্টিমুখের মধ্যদিয়ে শুভ সূচনা করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা ও স্থানীয় লেখকদের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মো. আনছার আলীর লেখা ‘নদীর নাম মাথাভাঙ্গা’ বইটির ওপর আলোচনা করেন আহাদ আলী মোল্লা, পিণ্টু রহমানের ‘রাঙ্গা প্রভাত’ বইটির ওপর আলোচনা করেন রোকন রেজা, হাবিবুর রহমান বাবুর ‘মহাজাগতিক রহস্য ও সত্য ও ন্যায়ের নির্দেশিকা’ বইয়ের ওপর আলোচনা করেন ড. মুন্সি আবু সাইফ, এস ইসলামের ‘নীল আকাশ ও কাশফুল’ বইয়ের ওপর আলোচনা করেন আবু নাসিফ খলিল এবং হুমায়ুন কবীরের ‘বোয়ালমারীর শাহ পরিবার’ বইটি নিয়ে আলোচনা করেন ড. মুন্সি আবু সাইফ।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আমাদের বাংলা সংস্কৃতির ধ্বংসের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। এই সাহিত্য পরিষদ যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ব্যর্থ।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যে লেখকেরা বই লেখেন, তারা তিন বেলা তিন মুঠো ভাত পায় কি না, আপনারা কখনো খোঁজ নিয়েছেন? যারা আজকে কবিতা লেখেন, তাদের কবিতা কোথাও ছাপা হয় কি না, একবারও খোঁজ রেখেছেন? নতুন প্রজন্মকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং এই বাংলা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপনারা কাজ করুন। আমি সবসময় আপনাদের সাথে আছি।’
শরীফুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন, তবে আগামী মাসেই সংস্কৃতি মন্ত্রীকে আমি চুয়াডাঙ্গায় আনবো। আমি এই শিল্পকলা, সাহিত্য পরিষদের বিষয়ে ইতিমধ্যে কথা বলেছি। আপনারা চাইলে আপনাদের দাবি মন্ত্রীর সামনে আমি উপস্থাপনের সুযোগ করে দিতে পারবো।’ মাথাভাঙ্গা নদী রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, নদী রক্ষার বিষয় যদি শুধু কমিটি আর পত্রিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে কখনোই সম্ভব না। সকলে দল-মত নির্বিশেষে এক হয়ে কাজ করলে তবেই চুয়াডাঙ্গার প্রাণ মাথাভাঙ্গা বাঁচানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভিত্তিতে কাজের হিসাব ধরে আগামী টেন্ডার করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি শেড বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ না থাকে, তবে আমি নিজ উদ্যোগে তা বাস্তবায়ন করব। তবে এ ক্ষেত্রে আমার একটি শর্ত রয়েছে। শর্ত হলো- আপনাদের পাঠক তৈরি করতে হবে। এই দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। আপনারা নিয়মিত এখানে আসবেন, নতুন পাঠক খুঁজে বের করবেন। যদি আপনারা এখানে পাঠক আনতে পারেন, তাহলে আমি শেড নির্মাণ করব, ফ্যানের ব্যবস্থা করব, পত্রিকা সরবরাহ করব। কিন্তু আপনাদের সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। আপনারা যদি এই চর্চা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে এখানে ৩৬ হাজার নয়, প্রয়োজন হলে ২ লাখ টাকাও আমি ব্যয় করব।’
সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নববর্ষের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি। এছাড়া বক্তব্য দেন নজির আহমেদ, পূর্ণিমা সাহা, সাংবাদিক হুসাইন মালিক, দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল আমিনসহ অন্যান্যরা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি, তৌহিদ হোসেনসহ অনেকে।
দুপুরে বাংলা খাবারের মধ্যাহ্নভোজ শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবিতা আসর অনুষ্ঠিত হয়। সাহিত্য পরিষদের অর্থ সম্পাদক মিম্মা সুলতানা মিতার সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম, আনছার আলী, আবু নাসিফ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার রাবিয়া খাতুন রাবু, পূর্ণিমা সাহা, আকিব তৌফিক চৌধুরী, হারুন অর রশিদ, হাবিব বাবু, ফয়সাল আহমেদ, মুরশীদ, গুরু কাজল মল্লিক, খালেকুজ্জামান, বনলতা, আব্বাসউদ্দীন, মরিয়ম সুলতানা ভুবন, আকলিমা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। এছাড়া চিরায়ত সাহিত্য থেকে পাঠ করেন অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, সরদার আলী হোসেন, জাকিয়া সুলতানা ঝুমুর, পূর্ণতা, শেখ রায়হান ওয়াফি ও খন্দকার জান্নাতুল মাওয়া।
নিজস্ব প্রতিবেদক