আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের পাচার প্রতিরোধ, পুশ-ইন ঠেকানো এবং চোরাচালান দমনে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীন ১৯টি বিওপি ও ১টি আইসিপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষ কর্মসূচির আওতায় দর্শনা আইসিপিতে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ১৪টি তেল পাম্পে বিশেষ নজরদারি ও চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য তেল পাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৭৯টি বিশেষ ও নিয়মিত টহল এবং ৭৩৭টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের অংশগ্রহণে ৪৪টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ১১টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি চেকপোস্টও পরিচালনা করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি তেল পাচার ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে ৭ জন আসামিসহ ১৯টি স্বর্ণের বার, রুপার বার, ডিজেল তেল ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে, যার সিজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ২ জন আসামিসহ বিপুল পরিমাণ মদ, ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার, জ্বালানি তেল পাচার, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সমীকরণ প্রতিবেদক