মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে তুলা চাষের প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ

৩ হাজার ৩০০ কৃষক পাবেন ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৭-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় কৃষকদের মাঝে তুলা চাষের প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ

চুয়াডাঙ্গায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে তুলা চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল চারটায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোনের আয়োজনে আলুকদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।


অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলার কৃষকদের তুলা চাষে আগ্রহী করে তুলতে প্রতি বিঘা জমির জন্য ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলা বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া সার, ৫০ কেজি টিএসপি সার, ৫০ কেজি এমওপি সার, ২ কেজি বোরন সার, ২০০ মিলি ডাইফেনথিউরণ, ১০০ মিলি স্পিনোসেড, ১৫০ মিলি ছত্রাকনাশক এবং ৩০০ মিলি পিজিআর (ম্যাপাকুয়েট ক্লোরাইড) প্রদান করা হবে। এসব উপকরণের মোট মূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা। জেলায় এ কর্মসূচির জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জেলার মোট ৩ হাজার ৩০০ জন কৃষক এ প্রণোদনার আওতায় থাকবেন। উদ্বোধনী দিনে ১০ জন কৃষকের হাতে উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। আগামীকাল থেকে পর্যায়ক্রমে জেলার সকল সুবিধাভোগী কৃষকের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।


চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের যে প্রণোদনা দিচ্ছে, তার মূল্য কৃষকদের উপলব্ধি করতে হবে। কৃষকদের উৎসাহিত করতেই এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি সমৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তখন আউশ ও আমন-এই দুই ধরনের ধানই প্রধান ছিল। আমি একজন কৃষকের সন্তান, তাই কৃষকের মূল্য আমি বুঝি। জিয়াউর রহমান কৃষকদের কাছে সর্বপ্রথম ইরি ধান পৌঁছে দিয়েছিলেন। ইরি চাষে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সারা দেশে খাল খননের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি সহজলভ্য স্যালো মেশিন কৃষকদের হাতে তুলে দেন এবং কৃষি উপকরণ কেনার জন্য সহজ ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেন। পরে কৃষকেরা ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়লে  বেগম খালেদা জিয়া সেই ঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলেন।’


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে কৃষিতে আরও সমৃদ্ধ করতে বিএনপি সবসময় কৃষকদের পাশে ছিল এবং থাকবে। আমাদের জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ বিজিএমইএ’র সভাপতি। গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। এই শিল্পের মূল কাঁচামাল তুলা, যা আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমরা যদি দেশের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ তুলা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি এবং কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করতে পারি, তাহলে গার্মেন্টস শিল্পে লাভের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে যে খরচে বিদেশি তুলা আমদানি করে পোশাক রপ্তানি করছি, দেশীয় তুলা ব্যবহার করে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারলে দেশের আয়ও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।’
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার মাটি কৃষির জন্য অত্যন্ত উর্বর। নতুন নতুন ফসল যেমন আঙুর, মাল্টা, ড্রাগনসহ নানা ফলের চাষ ও উদ্ভাবনে চুয়াডাঙ্গা এগিয়ে রয়েছে। এতে কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তুলা চাষে সময় বেশি লাগলেও সমন্বিত চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকের লোকসান কমানো সম্ভব হবে এবং এতে তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, ‘আমরা চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করছি। সরকারের প্রণোদনার আওতাভুক্ত ফসল বেশি বেশি চাষে উৎসাহিত করছি। তামাক চাষে জমির উর্বরতা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুরাও এর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরূপ। তামাকচাষীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না- এ কথাও কৃষকদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে।’
কৃষকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষকরাই একেকজন কৃষিবিদ, একেকজন ছোটখাটো বিজ্ঞানী। কৃষির অধিকাংশ উন্নয়নই কৃষকদের হাত ধরেই হয়েছে। একসময় দেশের অনেক মানুষ তিনবেলা খাবার পেত না। সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কৃষকদের অবদান রয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, তুলা এমন একটি ফসল, যার কোনো অংশই অপচয় হয় না, সবই কাজে লাগে। আমাদের দেশের বড় একটি শিল্প গার্মেন্টস শিল্প। কিন্তু আমরা সেলাইয়ের মজুরি ছাড়া তেমন কিছুই পাই না। তাই প্রয়োজন দেশেই তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কৃষকরা তুলা চাষে এগিয়ে এলে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে দেশ আরও লাভবান হবে।


সভায় চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. ইজাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোজাদ্দীদ আলী শামীম। এছাড়া বক্তব্য দেন কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জিনিং মালিক সমিতির সেক্রেটারি গোলাম সাবের লাল এবং তুলা চাষি সাইফুল ইসলাম, সজল ও মুকুল। অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

মহেশপুরে ড্রেন নির্মাণকাজে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক নিহত