‘নজরুল আমাদের সম্পদ, বাংলা সাহিত্যের সম্পদ, বাংলাদেশের সম্পদ। নজরুল মানেই আমাদের রক্তে আগুন ধরানো এক নাম। বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য কিংবা বিরহ- সবখানেই তিনি অনন্য।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তী উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কার্পাসডাঙ্গার নজরুল স্মৃতিবিজড়িত আটচালা কুঁড়েঘর পরিদর্শন, জাতীয় কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া শেষে মিশন স্কুল মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, নাটক ও পুরস্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে তিন দিনের উৎসব শেষ হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সবাই কাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী। নজরুল ইসলাম আমাদের চেতনার নাম। তিনি আমাদের এমন এক অমরত্ব দিয়ে গেছেন, যা বাঙালির আত্মপরিচয়ের অংশ হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘যদি বিদ্রোহের কবিতার কথা বলি, নজরুল ভেসে ওঠেন। প্রেম, বিরহ কিংবা সাম্যের কথা বললেও নজরুলই সামনে আসেন। যে কবির কবিতায় হৃদয়ে স্পন্দন জাগে, রক্তে শিহরণ তোলে- তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।’
নজরুল স্মৃতিকে ঘিরে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কার্পাসডাঙ্গায় সরকারি জায়গায় জাতীয় কবির নামে একটি ‘নজরুল ইনস্টিটিউট’ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভৈরব নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় একটি ‘নজরুল পাড়’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘নজরুলকে মানুষ কীভাবে স্মরণ করবে, তার পথরেখা দিয়ে গেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জনের পেছনে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের অবদান রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে যে দমন-পীড়ন চলেছে, তার একমাত্র বিরোধিতাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘চরম নির্যাতনের মুখেও বেগম খালেদা জিয়া তার আদর্শ থেকে এক ইঞ্চিও সরে যাননি।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেন, ‘কার্পাসডাঙ্গায় স্থায়ী অডিটরিয়াম ও সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রতি বছর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়। তাই নজরুল ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আধুনিক অডিটরিয়াম, গ্রিনরুম ও সাংস্কৃতিক চর্চার কক্ষ নির্মাণ জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়ার কুঠিবাড়ির মতো কার্পাসডাঙ্গার নজরুলের আটচালা কুঁড়েঘরকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রূপ দেওয়া সম্ভব। ভৈরব নদীর তীরে ওয়াকওয়ে ও ‘নজরুল পাড়’ নির্মাণ করা গেলে এই এলাকা নতুনভাবে পরিচিতি পাবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহিন আলম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টুসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম। সমাপনী অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান, চুয়াডাঙ্গা আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তি পরিবেশনা এবং নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক