জীবননগনে বিয়ের আশ্বাসে এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে মোস্তাক হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই যুবক অন্যত্র বিয়ে করেছেন জানতে পেরে বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়িতে যান তরুণী। এসময় যুবক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মাধবখালী বটতলাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বটতলাপাড়ার ওই তরুণীর সঙ্গে একই এলাকার মোস্তাক হোসেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর মায়ের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মোস্তাক প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে নিজের বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে তাঁর মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে বিয়ের কথা বললে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে মোস্তাক একটি সাদা কাগজে ওই তরুণীর স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁকে বিয়ে করেছেন বলে জানান। তবে বিষয়টি গোপন রেখে মোস্তাক অন্যত্র বিয়ে করেন। এ খবর জানতে পেরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়িতে যান ওই তরুণী। এসময় মোস্তাক, তাঁর বাবা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তরুণীর মায়ের আরও অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মেয়ের হাতে বিষের বোতল তুলে দিয়ে বিষপান করে মারা যেতে বলা হয়। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মোস্তাক হোসেন, তাঁর বাবা সোনা মিয়া (৬০) ও ভাই রাজা মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মারধর, প্রতারণা ও হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদক