চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে শহরের চৌরাস্তা সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে নির্ধারিত উপযুক্ত স্থানে ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কয়েকজন নিম্নআয়ের ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা বড়বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন। এসময় তারা জানান, উচ্ছেদের কারণে তাদের অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে বড় বাজারের হাসান চত্বরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিবলুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে তাদের দোকান সরিয়ে নেন। এরপর ৭ আগস্ট নিচের বাজার সড়ক ও ব্রিজসংলগ্ন এলাকার দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদ করা এলাকায় বর্তমানে বন বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। ফলে সেখানে আর ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিকল্পভাবে ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা কেউ স্থায়ী দোকান বা বড় ব্যবসা করার সামর্থ্য রাখেন না। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানদের ভরণ-পোষণ ও দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করতেই ঠেলাগাড়িতে ছোট পরিসরে ব্যবসা করতে চান। এ জন্য প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চৌরাস্তা সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে উপযুক্ত কোনো স্থানে দিনের বেলায় ব্যবসা করার অনুমতি চান তারা।
তাদের প্রতিশ্রুতি, প্রতিদিন সকালে এসে ব্যবসা করে সন্ধ্যার মধ্যে ঠেলাগাড়ি সরিয়ে নেবেন। ব্যবসার কারণে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, পথচারীদের চলাচলে সমস্যা না হয় এবং মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াত ও নামাজ আদায়ে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও তারা সতর্ক থাকবেন। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও ঠেলাগাড়ি না রাখা, প্রতিদিন ব্যবসা শেষে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে জনস্বার্থে প্রশাসন স্থান পরিবর্তন বা ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিলে তারা তা মেনে নেবেন। তাদের কোনো স্থায়ী জায়গা বা বিশেষ সুবিধার দাবি নেই। শুধু পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সীমিত পরিসরে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করার সুযোগ চান তারা। জেলা প্রশাসনের কাছে তারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে চৌরাস্তা সংলগ্ন মসজিদের আশপাশে নির্ধারিত উপযুক্ত স্থানে ঠেলাগাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীদের আশা, প্রশাসনের অনুমতি পেলে কয়েকটি নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তারা পরিবারের নিত্যদিনের খরচ চালাতে পারবেন। এসময় বাপ্পি, শামিম, বাবু, হারুন, রনি, জাকিরসহ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক