শনিবার, ১৫ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির ঝিনাইদহ, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি সেচ ও শিল্প উৎপাদন

রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নির্দেশে প্রশাসনের উদাসীনতা
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৮-২০২৬ ইং
বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির ঝিনাইদহ, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি সেচ ও শিল্প উৎপাদন

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঝিনাইদহের মানুষ। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আমন চাষের প্রস্তুতিতে সেচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটে চালকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনও কমে গেছে।


এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সরকারি নির্দেশ থাকলেও ঝিনাইদহ শহরে তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষিকাজসহ দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওমর আলী দাবি করেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি বা লোডশেডিং নেই।


চলতি আমন মৌসুমে জমিতে পানি দেওয়া ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না তারা। রামনগর গ্রামের কৃষক ছোটন মোল্লা বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। আমন ধানের জমি প্রস্তুত করতে প্রচুর পানি প্রয়োজন হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হলিধানী ইউনিয়নের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, জমিতে পানি না থাকলে ধান রোপণ করা যায় না। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সেচের খরচ বাড়ছে। দেরিতে ধান রোপণ করলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


শুধু কৃষি নয়, বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প ও ব্যবসা খাতেও। সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারের চাউল মিল মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় চালকলগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। মেশিন চালু করার পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতেও ভোগান্তি বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদেরও কষ্ট বেড়েছে।


এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ রয়েছে। তবে ঝিনাইদহ শহরে এ নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। রাত ৮টার পরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট খোলা রেখে স্বাভাবিকভাবে কেনাবেচা করতে দেখা যায়।


তবে প্রশাসনের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে মাঠে নেমেছে ঝিনাইদহ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শহরজুড়ে মাইকিং করে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সচেতন নাগরিক আহাদ হোসেন বলেন, একদিকে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ দিচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় শহরের অনেক দোকানপাট রাতেও খোলা থাকছে। এতে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, অথচ গ্রামের কৃষকেরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। আমন মৌসুমের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেচ এলাকায় দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

জীবননগরে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে পিটিয়ে জখম, গ্রেপ্তার বোন