শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী

সব শ্রেণির মানুষের বাজেট

  • আপলোড তারিখঃ ১৩-০৬-২০২৬ ইং
সব শ্রেণির মানুষের বাজেট

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সব শ্রেণির মানুষের জন্য এ বাজেট। সবার কথা চিন্তা করেই এ বাজেট দেয়া হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, চাকরিজীবী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কেউ বাদ যায়নি। সবার অধিকার এ বাজেটে রয়েছে। এ বাজেটের প্রেক্ষাপট, চিন্তা ও দর্শন আলাদা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, বাজেট প্রক্রিয়া বাংলাদেশে ছয় মাসের একটি কর্মযজ্ঞ। সে জায়গায় আমরা দেড়-দুই মাসের মধ্যে একটা বাজেট প্রস্তুত করেছি। এ জন্য যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়েছে, তারপরও সবার সহযোগিতায় সে কাজটি আমরা করেছি। কতটুকু পেরেছি সেটি দেশের জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। আমীর খসরু বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আর এ জন্য কেবল নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে না।


জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল এবং সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরতে রেওয়াজ অনুযায়ী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এবং ৫৫তম জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রেজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার করে বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলে দেশের প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া হয়েছে, অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাই সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, দেড় দশক ধরে দেয়া বাজেটে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হয়নি। এ জন্য নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা চলছে। যেন অর্থের অপচয় না হয় সেসব ভেবেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।


বাজেটে মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, বাজেটে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, আমরা সবার সঙ্গে কথা বলে প্রত্যাশা প্রতিফলনের চেষ্টা করেছি বাজেটে। প্রতিটি নাগরিককে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করেছে সরকার। কোনো শ্রেণিপেশার মানুষ এ বাজেটের আওতার বাইরে থাকেনি।


সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বাড়লে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে এবং এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ার প্রবণতা থাকে। এটি অস্বীকার করে লাভ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি। কিন্তু এদিকে তো মূল্যস্ফীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, সেই জায়গাটা আমাদের অ্যাড্রেস করতেই হবে। কারণ সরকারি কর্মচারী বলে তাদের কষ্ট পেতে হবে, বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বাড়বে: এটি বৈষম্য হয়ে যায়। এই জায়গাতেই আমরা আশা করছি, তাদের যখন আয় বাড়বে তাদের যখন জীবনযাত্রার মান একটু উন্নত হবে, নিশ্চয়ই তখন দুর্নীতিও কমবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র‌্যাব বা সরকারি লোকজন দিয়ে হয় না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পলিসির মাধ্যমে ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে। আমরা যদি পলিসিগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি মনে করি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেট বক্তৃতাই কোন খাতে কত চাকরি হবে এটি বলা সম্ভব নয়। আমরা বিস্তারিত বলেছি, আইসিটিতে শিল্প খাতে কৃষিতে বিদেশে কর্মসংস্থান কত হবে। আমরা হয়তো এগুলোর বিপরীতে সংখ্যা বসাইনি। কিন্তু কোন কোন খাতে চাকরি হবে, তা বিস্তারিত বাজেটে বলেছি। সংখ্যা দেইনি, কারণ সংখ্যা দেয়া সম্ভব নয়।


অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের যে প্রেডিকশন করেছি, সেটি পূরণ করতে পারব। কর্মসংস্থান এমনি হয় না, সেটি তৈরি করতে হয়। এ জন্য আমরা বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি। বিনিয়োগ মানে কর্মসংস্থান, সেটি সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক। দেখবেন শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বড় বরাদ্দ দিয়েছি, তার মূল কারণ স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বাড়ানো। আপনি যদি দক্ষ শ্রমিক হন বা কর্মচারী হন, আপনার চাকরি দেশে-বিদেশে সব জায়গায় হওয়া খুবই সহজ বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।


বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় আনার জন্য আমাদের স্লোগান ছিল অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা। এর আগে অর্থনীতিটা ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি, কিছু গোষ্ঠীর জন্য অর্থনীতি। তিনি বলেন, যারা অর্থনীতির ভাবনার বাইরে ছিল আমরা সেই মানুষগুলোকে এই বাজেটের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবার জন্য কম-বেশি বরাদ্দ দেয়া আছে, প্রোগ্রাম আছে এবং রোডম্যাপ আছে। শুধু পলিসি নয়, আমরা রোডম্যাপও দিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এজন্য এই বাজেটটি একটু ভিন্নধর্মী বলেন তিনি।


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত দেড় দশকে বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। রুল বেজড ইকোনমিক অর্ডার থেকে বিশ্ব সরে গিয়ে একটি প্রটেকশনিস্ট অর্ডারে চলে গেছে। দ্বিতীয় কথা হলো যুদ্ধ-বিগ্রহ এখন নিউ নরমাল, এখান থেকে আমরা বের হতে পারছি না। যার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষেত্রে এ চ্যালেঞ্জটা আরো বেশি। কারণ আমরা যেটি ইনহেরিট করেছি, বিগত সরকারের পর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে যুদ্ধ: সব মিলিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জটা আরো বেশি।


অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা, বিনিয়োগের ধরন ও বিনিয়োগ মূল্যায়নের মানদ-ও বদলে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার (পাবলিক ফাইন্যান্স) বিদ্যমান কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সঙ্কুচিত করে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মূল গ্রাহক হওয়া উচিত বেসরকারি খাত; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে সেই ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।


তিনি বলেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি একদিনে বদলানো যাবে না। তবে সরকার ধীরে ধীরে সেই পথে এগোচ্ছে। চলতি বাজেটে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরো কমে আসবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের ঋণের বড় অংশ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রবাহিত হবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।


আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে এবং ব্যাংকিং খাতেও সরকারি ও বেসরকারি ঋণের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের এই সীমিত সম্পদের মধ্যে সবার জন্য কম-বেশি বরাদ্দ দেয়া আছে, প্রোগ্রাম দেয়া আছে এবং রোডম্যাপ দেয়া আছে। শুধু পলিসি বা নীতিমালা নয়, আমরা রোডম্যাপও দিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন জ্বালানি খাতে বড় অভিঘাত এসেছে। তাছাড়া আগের যা আমরা ইনহেরিট করেছি, সেই প্রেক্ষাপটে বাজেট করতে গিয়ে সবার কথা মাথায় রেখে সবার জন্য বাংলাদেশ বা অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মৌলিক নৈতিক ভিত্তি আমাদের বিবেচনায় ছিল। আমরা একটি কথা বারবার বলেছি, আমাদের প্রত্যেকটি ব্যয়ের পেছনে চারটি ক্রাইটেরিয়া আছে। একটি হচ্ছে ভ্যালু ফর মানি, একটি রিটার্ন অব ইনভেস্টমেন্ট, একটি জব ক্রিয়েশন, আরেকটি এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন। এই চারটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে আমরা আগামী দিনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি।


অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস জোরদার করার পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিতে সরকারি বিনিয়োগ (পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট) বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অতীতে যেখানে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। তার মতে, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকা- সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ও বাড়াবে। চলতি অর্থবছরের থেকে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে এ জন্য যা বিকল্প অর্থায়নের বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছে।


খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সম্প্রতি সরকার সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ইস্যু করেছে, যা ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এ বন্ডের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৭২ হাজার কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের একটি বড় অংশ সংকটে রয়েছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে। এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। একটি ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন যেসব আমানতকারী টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না, তারা এখন ধীরে ধীরে টাকা পেতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে আমরা ইসলামী ব্যাংককে সাপোর্ট দিতে চাই। ব্যাংকটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

নিখোঁজের একদিন পর উদ্ধার হওয়া শিবির নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা