আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবৈধ গাইড বাণিজ্য নিয়ে লুকোচুরি চলছে। পর্দার আড়ালে মোটা অঙ্কের লেনদেন হওয়ার গুজব ভাসছে কালীগঞ্জ শহরে। শোনা যাচ্ছে ইতিমধ্যে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে ধরা পড়ার পরও জেলাব্যাপী বহুল আলোচিত এই কেলেঙ্কারির খবর অংকুরেই বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম দাবি করেছেন, তিনি গত ৩ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একবার বলছেন তদন্ত রিপোর্ট পাননি, আরেকবার বলছেন আমি ঢাকায় চলে আসার পর তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এতে করে প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বাঁধছে। অনেকে বলছেন দুই কর্মকর্তার দুই রকম বক্তব্যে মনে হচ্ছে মালপানি তারা বেশ ভালোই গিলেছেন, তা না হলে এমন পরস্পর বিরোধী বক্তব্য কেন হবে?
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই দ্বিমুখী অবস্থানকে কেন্দ্র করে পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, এটি শুধুই প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ ও তথ্য আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা অফিস পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। অথচ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রতিবেদন নিয়ে এই অস্পষ্টতা জনমনে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির দুই নেতা আমিনুস সোবাহান রাজা ও আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট গাইড বই চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ২৪ লাখ টাকা সমিতির রূপালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং বাকি অর্থ নগদে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নেতারা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। সদস্যসচিব আহসান হাবিব দাবি করেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। অপরদিকে আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য দেননি।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, আমি ঢাকায় আসার পর হয়তো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এজন্য আমি দেখতে পারেনি। তিনি বলেন, তদন্ত কাজে শিক্ষক সমিতির কেউ সহায়তা করেনি। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রবল চাপ তো আছেই। তবে তিনি অন্য গণমাধ্যমকর্মীর কাছে ভিন্ন কথা জানান। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম তার অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহ অফিস