বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় এবার বাংলা নববর্ষের আমেজ নেই, ফাঁকা মার্কেট-শপিংমল

বৈশাখ ঘিরে বেচাকেনায় ধস, হতাশ ব্যবসায়ীরা!
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৪-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় এবার বাংলা নববর্ষের আমেজ নেই, ফাঁকা মার্কেট-শপিংমল

নাজমুল সামি:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রতি বছর চুয়াডাঙ্গার মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নতুন পোশাক, কেনাকাটা ও উৎসবের আনন্দে মুখর থাকে পুরো শহর। তবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এ সেই চিরচেনা চিত্র যেন একেবারেই উধাও। এবছর চুয়াডাঙ্গার বিপনি বিতানগুলোতে নেই ক্রেতাদের ভিড়, নেই উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই বিরাজ করছে ক্রেতাশূন্যতা। বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন, কেউ কেউ প্রকাশ করছেন হতাশা।


স্থানীয় বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের কাপড় তো দূরের কথা, সাধারণ কাপড়ই কেউ কিনতে আসছেন না। বেচাকেনা একেবারেই নেই বললেই চলে। আগের মতো সেই আমেজও নেই।’ আরেক বিক্রেতা রিপন জানান, ‘বৈশাখ থাকে অল্প কিছুদিন। এই সময়ের জন্য নতুন কাপড় তেমন বিক্রি হয় না। ১০ পিস আনলে ৮ পিসই পড়ে থাকে। তাই এবার নতুন মাল তোলা হয়নি।’ বিক্রেতা সিয়াম বলেন, ‘কিছুদিন আগে ঈদ গেছে, সামনে আবার ঈদ আসছে। তাই হয়ত বৈশাখকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার চাপ নেই। কাস্টমারের চাহিদা না থাকায় আমরাও বৈশাখী পোশাক তুলিনি।’


বিগত বছরগুলোতে বৈশাখ উপলক্ষে যেখানে ক্রেতাদের ভিড়ে হাঁটার জায়গা থাকতো না, সেখানে এ বছর সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। দু-একটি দোকানে সীমিত বিক্রি হলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী দিন পার করছেন প্রায় বিক্রিহীন অবস্থায়। ব্যবসায়ীরা জানান, অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতি ও ক্রেতা সংকটের আশঙ্কায় এ বছর বড় ধরনের বিনিয়োগ করেননি তারা। ফলে দোকানগুলোতে পণ্যের বৈচিত্র্যও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।


অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্থিক সংকটই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই নতুন পোশাক কেনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। বাজারে আসা ক্রেতাদের বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ থাকছেন। মুনিরা নামের এক কলেজছাত্রী বলেন, ‘আগের বছরের একটি শাড়ি আছে, সেটি দিয়েই এবারের বৈশাখ পার করবো। তাই নতুন কিছু কিনিনি।’ নিলয় নামের এক তরুণ জানান, ‘বৈশাখে তেমন কেনাকাটা করি না। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরি, আড্ডা দিই- এটাই বেশি হয়। বিশেষ কোনো পোশাকের চাহিদা নেই।’


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পড়েছে বৈশাখের বাজারে। প্রতিবছর উৎসবকে ঘিরে যে বাণিজ্যিক গতি তৈরি হতো, এবছর তা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলা নববর্ষ এলেও চুয়াডাঙ্গার বাজারে তার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। নেই সেই চিরচেনা উৎসবের উচ্ছ্বাস, নেই কেনাকাটার জোয়ার। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষের মাঝেই বিরাজ করছে এক ধরনের হতাশা।



কমেন্ট বক্স
notebook

উথলী হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা