চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করা নতুন ২২ জন সদস্যকে গাউন পরিয়ে ও ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নবীন আইনজীবীরা হলেন- আশরাফুল আলম, শাহিন হোসেন, মাহমুদুল ইসলাম, কানিজ ফাতেমা, শংকর কুমার, মো. কামরুজ্জামান, নাজমুল হাসান, রাফাতুল্লাহ কবির হিমেল, হুসনে আরা খাতুন, তৌফিক আহমেদ, মিনহাজুল আবেদীন, হারুন-অর-রশিদ, হালিমা খাতুন, জুয়েল রানা, রুখশানা আক্তার, সোনিয়া শারমিন, কামরুল আরেফিন, তুর্যউর রহমান, করিম আলী, রওশন আলম, আবদুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সমিতির সেক্রেটারি খন্দকার অহিদুল আলম মানি সঞ্চালনা করেন। সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি আকসিজুল ইসলাম রতন ও মোর্তজান হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক হারুনুর রশিদ বাবলু, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান (২), সাবেক সভাপতি সেলিম উদ্দিন খান, সাবেক সেক্রেটারি আবুল বাশার, আসম আব্দুর রউফ ও তালিম হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী শাহ আলম, আব্দুল কুদ্দুস, বজলুর রহমান, কাইজার হোসেন জোয়ার্দ্দার, রফিকুল ইসলাম (২), মোসলেম উদ্দিন (২), আসলাম উদ্দিন ও তুহিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বারে সদ্য যোগদানকৃত আইনজীবী তুর্যউর রহমান, রুখশানা আক্তার কানিজ ফাতেমা বলেন, নবীন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করার পর গাউন পরিধান, ফুল দিয়ে বরণ ও মিষ্টি খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে যে পথচলা শুরু হলো, সে জন্য তারা বারের নেতৃবৃন্দের কাছে কৃতজ্ঞ। আইনজীবী পেশায় ভবিষ্যতে ভালো করতে পারি সে জন্য সকল সিনিয়র আইনজীবীদের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
এসময় সিনিয়র আইনজীবীরা বলেন, ‘যদি কেউ মনে করে আমি ভালো আইন জানি, তাহলে সে কিছুই জানে না। আপনাকে সারাজীবন পড়তে হবে। কোর্টে আসলাম স্যার জামিন দিলেন, জামিন পেলাম চলে গেলাম। তাহলে হবে না। বার কাউন্সিলের অ্যাক্ট অনুযায়ী, যে আপনার এক দিনের সিনিয়র তাকে স্যার বলতে হবে। তোমরা সঠিকভাবে সিনিয়রদের কাছে যাবা। আদেশ-উপদেশ নিবা। কোনো আইনজীবী বলতে পারে না আমি সব জানি।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ সারেয়ার বাবু বলেন, ‘আমি যখন ১৯৮৭ সালে প্র্যাক্টিসে যোগদান করি, সেই সময়ে কোনো নারী আইনজীবী প্র্যাক্টিসে ছিলেন না। বৈষম্যের কথা যদি বলি এখানে বৈষম্য মনে হচ্ছে। এ পেশাকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। এটি শ্রদ্ধার পেশা। সমাজে আইনজীবীর অনেক ভূমিকা আছে। আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন, আমি কী করতে পারলাম। আপনারা শিখবেন। উপজেলা পর্যায়ে কোর্ট এখন নেই। সেই সময়ে ছিল।’
প্রসঙ্গত : চলতি বছরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির ২৪ জন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ লাভ করেন। এরমধ্যে ২২ জন আইনজীবী বারে যোগদান করেছেন। বাকি দুজন ইসমত জেরিন মৌ ও কাজী সদরুল্লাহ এখনও যোগদান করেননি।
সমীকরণ প্রতিবেদক