শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা

প্রাণহানি ঘটলেই টনক নড়ে প্রশাসনের
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৪-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা

আলমডাঙ্গার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এক ধরনের অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এসব ক্লিনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌর শহরে বর্তমানে ১৫টি বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুই-একটি ক্লিনিক সরকারি নীতিমালা আংশিক মেনে চললেও বাকিগুলোতে নিয়মের কোনো বালাই নেই। সরকারি বিধি অনুযায়ী, প্রতি ১০ শয্যার ক্লিনিকের জন্য ৩ জন সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, মাত্র ৪টি ক্লিনিকে সকালে স্বল্প সময়ের জন্য চিকিৎসকের দেখা মিললেও বাকি সময়গুলোতে এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে পরিচালিত হয়, তা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্লিনিকের মালিকরাই চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার এবং নন-মেডিকেল স্টাফ দিয়ে অপারেশন করানোর মতো গুরুতর ও পুরনো অভিযোগ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।


প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অনিয়ম চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। কেবল কোনো ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটলে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নড়াচড়া চোখে পড়ে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শহরের ‘ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে’ দুই নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিসের একটি দল অভিযান চালায়। তবে প্রাণহানির মতো ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে অভিযান শেষ করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রজনী নামের এক নারী বলেন, ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে এলে নামে বেনামে নানা পরীক্ষা ধরিয়ে দিয়ে রোগীর পকেট কেটে নিচ্ছে। এই অরাজকতা দেখার যেন কেউ নেই।  বেসরকারি ক্লিনিকসমূহের এই অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আলমডাঙ্গা বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. নূরুন নাহার জানান, বর্তমান স্থানীয় বাস্তবতায় উচ্চ বেতনে স্থায়ী চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়ে সরকারি নীতিমালা মেনে ক্লিনিক ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।


এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শারমিন আক্তার বলেন, ‘ক্লিনিকগুলিতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যে সকল ক্লিনিক সরকারি নীতিমালা মানছে না আমরা সেসকল ক্লিনিকগুলি বন্ধ করে দেব।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চোরাচালান ও তেল মজুদে কড়াকড়ি, মাঠে সক্রিয় বিজিবি