শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন

বাঙালি ঐতিহ্যে ও সংস্কৃতি উৎসবে নতুন বর্ষবরণ
  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৪-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ সনকে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুরসহ সারা দেশে দিনব্যাপী উৎসব আনন্দে বরণ করা হয়েছে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ, বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকজ পরিবেশনা ও কনসার্টসহ নানা আয়োজন ছিল দিনব্যাপী।


চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৮টায় শহরের চাঁদমারি মাঠে (ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) জাতীয় সংগীত ও বৈশাখ বরণের গান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান। আয়োজনে অংশ নেয় জেলার সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, ব্যক্তি, পরিবার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসময় সকলেই বৈশাখী ও বাঙালিয়ানা সাজে অংশ নেয় বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে।

র‌্যালিটি চাঁদমারি মাঠ থেকে ডিসি অফিস, কোর্ট মোড়, হাসান চত্বর, কবরী রোড হয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত হয় এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সার্বজনীন শোভাযাত্রা। বাঙালি সংস্কৃতিকে রঙিন সাজে সজ্জিত করে অংশগ্রহণকারীরা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যকে যেন ধারণ করে আনন্দ শোভাযাত্রায়। শোভাযাত্রায়  বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীদের নানা সাজে অংশ নিতে দেখা যায়। বাঙালির হারিয়ে যাওয়া নানা চরিত্রের সাজে সজ্জিত হয়ে র‌্যালিটি আরও আনন্দমুখর তৈরি করে তারা। পরে সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লাঠি খেলার। এসময় সরকারি কলেজ মুখরিত হয় বাঙালি নাচ-গানে। শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের নানা কলাকৌশলে উদ্যাপিত হয় দিনটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, চুয়াডাঙ্গা জেলা রোভার স্কাউটস-এর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



মুকুল ফৌজ ও আবৃত্তি পর্ষদের বর্ষবরণ:
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ সুরে সুরে দীর্ঘ ৩০ বছরের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মুকুল ফৌজ ও চুয়াডাঙ্গা আবৃত্তি পর্ষদ। গত মঙ্গলবার ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকাল ছয়টা থেকে শিক্ষার্থীদের বৈশাখের আগমনী গান আর বাংলা নাচে মেতে ওঠে সকলে। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উৎসবমুখর পরিবেশে উপভোগ করেন এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনজুড়ে মোহিত হয়ে ছিল আগত দর্শকশ্রোতা। সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুকুল ফৌজ’র প্রধান দরদী বোন রাশিদা হাসনু আরা, আবৃত্তি পর্ষদের পরিচালক মনোয়ারা খুশী ও ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণীজন।


আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানি ইসরাইলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে পান্তা-ভর্তা উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বৈশাখী ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


হাটবোয়ালিয়া:
আলমডাঙ্গার ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রঙিন পোশাক, ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা, প্ল্যাকার্ড, মহিষের গাড়ি, পালকি এবং বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন। ঢাক-ঢোলের তালে তালে আনন্দঘন পরিবেশে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রার পর অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এতে শিক্ষার্থীরা ছড়া, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ, গান, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। বৈচিত্র্যময় এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম জাহিদ হোসেন জিণ্টু, ভাংবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন জোয়ার্দার, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মজিরুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাজিবুল হক রাজন।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ, নাড়ু-মুড়ি, আলু ভর্তা, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল, যা গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সবার মাঝে বিশেষ আনন্দ যোগ করে। পরিশেষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আনন্দ, উৎসবমুখরতা ও সম্প্রীতির মধ্যদিয়ে ভাংবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।


দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর কর্মসূচিতে মুখরিত ছিল পুরো উপজেলা। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন। ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর বৈশাখী গানের সুরে পুরো শহর রূপ নেয় এক উৎসবের জনপদে। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাঙালির গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন প্রতীকী উপকরণ ও রঙিন ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উবায়দুর রহমান সাহেল। উদ্বোধন শেষে শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদেরসহ সকল অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকেল থেকে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য, সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নায়েব আলী, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুরে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় যুব সমাজের আয়োজনে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে  গ্রামবাসীর উদ্যেগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে তিন দিনের বৈশাখী মেলার ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু।
রঘুনাথপুর মেলা কমিটির উপদেষ্টা মোজাম্মেল শিশিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সদস্য ওহিদুজ্জামান ও দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ। আরও উপস্থিত রঘুনাথপুর বিএনপির নেতা ইনছান আলী, আব্দুল আলিম, খোকন বিশ্বাস প্রমুখ। আলোচনা শেষে যেমন খুশি তেমন সাজো প্রত্যেককে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।


দর্শনা:
দর্শনায় অনির্বাণ থিয়েটারের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় দর্শনা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গানে গানে বর্ষবরণ করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দর্শনা বাজার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালির আগে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বৈশাখী গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় দর্শনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন মুখরিত হয়ে ওঠে।


জীবননগর:
জীবননগরে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত মঙ্গলবার আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। এদিন সকাল ৮টায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ বহন করেন। ঢাক-ঢোলের তালে তালে প্রাণবন্ত এ আয়োজন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শোভাযাত্রার ব্যানারে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’ স্লোগানটি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের কর্মকর্তাগণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলা ও লোকজ প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে বলেও তারা জানান।
এদিকে, জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণিল বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে এ মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা গড়ে ওঠে। মেলায় মাটির পুতুল, বাঁশি, ঘুড়ি ও বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি জিলাপি, কদমাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
শিশু-কিশোরদের আনন্দ দিতে নাগরদোলাসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়া বাউল গান, লোকসংগীত ও পুতুলনাচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দিনভর নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের আয়োজন বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


উথলী:
জীবননগর উপজেলার উথলীতে সূর্য তোরণ ক্লাব ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। বিকেলে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। উথলী সূর্য তোরণ ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন পর আবারও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন বাংলা বছরের শুভ সূচনা হয়েছে চিরচারিত রবীন্দ্র সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ’-এর মধুর আহ্বানে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ-১৪৩৩ সকাল ৮টায় অনুষ্ঠানের সূচনায় পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত, দেশীয় গান, লোক সংগীত, কবিগান, দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে আনন্দঘন  পরিবেশ। ‎এরপর গাওয়া হয় ‘এসো হে বৈশাখ’, যার সুরে নববর্ষের আবাহন যেন নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলে চারপাশ।গানের পরপরই শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ শামসুদ্দোজা নগর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাল-সবুজ পোশাকে ‘শুভ নববর্ষ’ লেখা ব্যানার বহন করে উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থপ্রতিম শীল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রতিনিধি আলামিন ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
‎এছাড়াও মেহেরপুর সরকারি কলেজ, জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাজুড়ে কখনো ভেসে আসে ‘এসো হে বৈশাখ’, কখনো ‘আজও আছে একতারা আর নকশিকাঁথার মাঠ’, আবার কখনো ‘বাজে কী মধুর সুরে বাজে বাংলাদেশি বাঁশি’- যেন বাংলার লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস।
‎নববর্ষের এই শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত জীবনচিত্রও- নববধূ, বোষ্টম-বোষ্টমী, সাপুড়ে, জেলে, তাঁতী, কামার-কুমারের বেশে অংশগ্রহণকারীরা যেন লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য রূপকথা রচনা করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে তাই নববর্ষের আনন্দ শুধু উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, হয়ে উঠেছে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক প্রাণবন্ত মহোৎসব।


মুজিবনগর:
মুজিবনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল হুদার নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।


এসময় উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) গৌতম কুমার, মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান, এনসিপির মেহেরপুর জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ খান, মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের আমির খানজাহান আলী, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, মুজিবনগর উপজেলা জাসাস-এর সভাপতি জুলফিকার আলী হেলাল ও মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ওমর ফারুক প্রিন্স। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের পান্তা-ইলিশ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত, লালনগীতি, পালাগান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।


এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, খেলনা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও বিভিন্ন দেশীয় পণ্যের সমারোহ দেখা যায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলার মাঠ। পরিশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


এদিকে, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জালাল উদ্দিন বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানজারুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম সালাউদ্দিন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি জুলফিকার আলী হেলাল, মেহেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফাহিম আহনাফ লিংকনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক কালু, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান, মোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান টুটুল ও সিনিয়র সহসভাপতি আ. রশিদ মোল্লা, বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল হক, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম সাহেবসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য নেতা-কর্মী অংশ নেন।


শোভাযাত্রা শেষে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত পান্তা উৎসবে অংশ নেন নেতা-কর্মীরা। এসময় তারা বাংলা নববর্ষের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন এবং দলের ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চোরাচালান ও তেল মজুদে কড়াকড়ি, মাঠে সক্রিয় বিজিবি