চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে এবার শততম বার্ষিক ১০০তম ইছালে সওয়াব আজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরে বাংলা মাসের ১২ ফাল্গুন বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করা হলেও এবার রোজার কারণে আজ রোববার ২ ফাল্গুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী বছর থেকে যথারীতি ১২ ফাল্গুনই অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরপুর মসজিদে বার্ষিক ইছালে সওয়াব। এবার প্রধান বক্তা থাকছেন বাংলাদেশ আল কুরআন গবেষণা পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা শাহাদত হোসেন বারী। সভাপতিত্ব করবেন ইছালে সওয়াব বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।
এ মসজিদ নিয়ে রয়েছে নানাজনের নানা কল্পকথা। তবে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি মসজিদের মূলকাহিনী। চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঠাকুরপুর গ্রাম। প্রতি বছরের বাংলা মাসের ১২ ফাল্গুন বার্ষিক ইছালে সওয়াব ও হালকায়ে জিকিরের তথা বার্ষিক ওরশ আয়োজন করে এলাকাবাসী। খাতা-কলমে এবার ১০০ বছর পূর্ণ হতে চলছে। তবে প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রায় ৩ থেকে ৪শ বছরেরও অধিক সময় ধরে হয়ে আসছে। কালক্রমে অবশ্য নামও পরিবর্তনের সূত্রপাত ঘটেছে। স্থানটি কালক্রমে পীরগঞ্জ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। নাম পরিবর্তন অবশ্য স্থানীয়দের প্রচেষ্টারই ফসল। ঠাকুরপুরের নাম পীরগঞ্জ করার আড়ালে নিহিত রয়েছে ওই বিশাল আকৃতির গম্ভুজ মসজিদটি।
ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য যুগে যুগে এলাকায় আলো ছড়িয়েছেন যারা, তাদেরই একজন ছিলেন আফু শাহ্। নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও ১৬৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাথাভাঙ্গা, নবগঙ্গা বেয়ে তিনি যে স্থানটি পছন্দ করে নোঙর গাড়েন, মালসামিয়ানা নামিয়ে আস্তানা গড়ে তোলেন, সেই স্থানটির নাম তখন ছিল ঠাকুরপুর, এখন পীরগঞ্জ। এখানেই রয়েছে বড় গম্বুজের মসজিদ। হযরত আফু শাহ ছিলেন সাধক পুরুষ, গুণীজন। কথিত রয়েছে তারই বিশেষ গুণে মসজিদটি এক রাতেই নির্মিত হয়। এ মসজিদের মূল কাঠামো অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়েছে। সম্প্রসারণের পাশাপাশি আধুনিকায়নেরও ছোঁয়া লেগেছে বিভিন্ন সময় দায়িত্বে থাকা কমিটির নেতৃবৃন্দের বিশেষ উদ্যোগে।
প্রধান ফটকটি টাইলস দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে যেমন, তেমনই মসজিদের অভ্যন্তর অংশেও লাগানো হয়েছে টাইলস, তৈরি করা হয়েছে ২য় তলা পর্যন্ত। পাশাপাশি গত বছর করা হয়েছে মহিলাদের জন্য নামাজের স্থান। একদিকে গ্রামের নাম নামকরণ করে মসজিদের চৌহদ্দির ভেতরেই একটা মাদ্রাসা করা হয়েছে। এই মসজিদে বা ইছালে সওয়াব এসে যদি কেউ নিয়ত করে, তাহলে মনের আশা পূরণ হয় বলে নজিরও রয়েছে। এ মসজিদেই প্রতিবছর ইছালে সওয়াব হালকায়ে জিকিরের আয়োজন করা হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক