দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চুয়াডাঙ্গার দুই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলার ৩৫৪টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে। সকাল হতেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। অনেকেই ভোরের ফজরের নামাজ আদায় করেই ছুটে আসেন ভোটকেন্দ্রে।
সকালের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রমুখী মানুষের ভিড়ে যেন তৈরি হয় এক অন্যরকম আবহ। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে অনেকের চোখেমুখে ছিল আনন্দ আর প্রত্যাশার ছাপ। জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় ভোটার আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। আজ ভোরে নামাজ পড়ে প্রথমেই কেন্দ্রে চলে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
একই কেন্দ্রের নারী ভোটার রওশন আরা বেগমের কণ্ঠেও ছিল তৃপ্তির সুর। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হলেও আনন্দটা অনেক বেশি।’ নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ ভোটার সোহেল রানা বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিলাম। সকাল থেকে মানুষের যে আগ্রহ দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে সবাই পরিবর্তন চায়।’ তরুণদের অংশগ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য যোগ করেছে।
সকাল থেকেই প্রার্থীরাও নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা ভি জে স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সকাল ৮টা ১০ মিনিটে আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী দুপুর ১২টার দিকে নান্দবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও ছিল একই চিত্র। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু সকাল ৮টায় আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। অপরদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
দিনভর ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আর উৎসবের আবহে চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচন যেন গণতান্ত্রিক চর্চার এক আনন্দঘন অধ্যায়ে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মুখে ছিল স্বস্তি, চোখে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে খুশি চুয়াডাঙ্গাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক