ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনেই বেসরকারি ফলাফলে ভূমিধস বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মো. রুহুল আমিন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর চুয়াডাঙ্গার রাজনীতিতে এই ফলাফলকে জামায়াতের এক ‘নীরব বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২ লাখ ১১ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৩ ভোট। এই আসনে প্রায় ৫৭ হাজার ৮৪৮ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই জয়কে নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই আসনে মোট ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৫৭ ভোটের মধ্যে পোল হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ২৩০ ভোট। শতকরা ভোট পড়েছে ৭৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪টি। আর ‘না’ ভোট পড়েছে ৮১ হাজার ২৫টি।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জয় এসেছে বড় ব্যবধানে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. রুহুল আমিন পোস্টাল ভোটসহ মোট ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট পেয়েছেন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোট রয়েছে ২ হাজার ৫৮৯টি। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু ধানের শীষ প্রতীকে পোস্টাল ভোটসহ মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ১৬৫টি। সব মিলিয়ে এই আসনে মো. রুহুল আমিন ৪৬ হাজার ৮১২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৪টি, পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট ১৭৫টি কেন্দ্র।
দুটি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের এই বড় ব্যবধানের জয় চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক শক্তি এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা জামায়াতের এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। একে নীরব বিপ্লব বলে সজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে। তবে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সকলকে শান্ত ও শৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যদিও এখনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ দুটি আসনেই জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমীকরণ প্রতিবেদক