বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মেহেরপুর জেলা বিএনপি গভীর শোক ও শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন। মেহেরপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় শোক সভা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শতশত দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কোরআন খতমসহ মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ বলেন, আজ জাতি এক মহান নেত্রীকে হারাল; বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রবাহকে ধরে রাখার জন্য সর্বক্ষণ সংগ্রাম করেছেন। তাঁর অবদান সমগ্র দেশে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ব্যথা আমরা অন্তরে অনুভব করছি, তাঁর পরিবার ও দলের প্রতি সমবেদনা জানাই।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, আমরা শুধু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই হারায়নি, হারিয়েছি এদেশের হতদরিদ্র ও ১৮ কোটি মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা গণতন্ত্রের স্বপ্নদ্রষ্টা সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একজন ধারক বাহক ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি সম্মান বিশ্বাস এদেশের মানচিত্র সাথে মিশে থাকা সেই মানুষটিকে হারালাম। তার এ দেশের প্রতি যে অকৃতির ভালোবাসা শত অসুস্থতার মধ্য দিয়েও তিনি কখনো বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেনি নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এদেশের মাটি ও মানুষের সাথেই মিশে থেকে বিদায় নিলেন। আমি তার রাজনৈতিক ও দেশের সর্বোচ্চ কর্মময় জীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি, ওনার এদেশের জন্য রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সক্রিয় থাকবো ইনশাল্লাহ।
জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুণ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেতা ছিলেন না, তিনি এক প্রজন্মের জন্য আশা, সংগ্রাম ও সাহসের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে অনেকেই শিক্ষা পেয়েছি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। আজ তার চিন্তা চেতনা ও অসম্পূর্ণ কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। তার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলোকে সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
মাসুদ অরুণ আরও বলেন, আজ আমরা দু:খে থাকলেও, দেশে তাঁর ভূমিকা ও আদর্শকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, সুবিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি যে বার্তা দিয়ে গেছেন, আমরা তা বাস্তবায়নে অটল থাকবো। শোকসভা শেষে সমগ্র মেহেরপুর জেলায় একযোগে দোয়া, মিলাদ ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা বিএনপি আগামী সাতদিন ধরে শোক কর্মসূচি পালন করবে এবং প্রতিদিন মোনাজাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। বিদেহী এই শোক অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে মরহুমার জীবন ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রতিবেদক মেহেরপুর