দামুড়হুদা উপজেলার সুবুলপুর ভৈরব নদের সুইচগেট নির্মাণ কাজ ১১ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পার হলেও শেষ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন স্কুলমাঠ দখল করে রাখায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ।
জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ভৈরব নদ পুনঃখনন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবুলপুর এলাকায় সুইচগেট নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬২ টাকা এবং চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৮ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩৬ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৭ জুলাই কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ২৯ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি জাঁকজমকভাবে সুইচগেট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে নির্ধারিত ১১ মাসে কাজ শেষ না হয়ে তিন বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সুইচগেট নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ব্লক তৈরির সরঞ্জাম ও উপকরণ দীর্ঘ তিন বছর ধরে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারেনি। বারবার তাগিদ দিলেও সরানো হয়নি নির্মাণসামগ্রী।
এদিকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের মাটি প্রধান সড়কে পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিশুরা স্কুল মাঠে খেলতে পারছে না। এখনও মাঠে ছোট ছোট পাথর পড়ে আছে। দ্রুত মাঠ পরিষ্কার করে খেলার উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দ্রুত সুইচগেট নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে।’
তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন বলেন, ‘বর্ষার কারণে আমরা কাজ এগিয়ে নিতে পারিনি। তবে আগামী জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’ চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। পরে সময় বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি আগামী জুন মাসের মধ্যেই সুইচগেট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা