দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার ওপর নিঃশ্বাস ছাড়ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আর গত কয়েকদিন ধরে ভ্যাপসা গরমে কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমভাবে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৫ শতাংশ। আগেরদিন রোববার বেলা তিনটায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ছিল মৃদু তাপপ্রবাহ। এর আগে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল গত ২৩ জুলাই। এ সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছায়নি। দেড় মাস পর এই সেপ্টেম্বরে দুদিন ৩৬ ডিগ্রি ছুঁয়েছে তাপমাত্রার পারদ।
গতকাল বেলা ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। এদিন সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭ ডিগ্রি এবং দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ভ্যাপসা গরমে চুয়াডাঙ্গার বাজার, অফিস, পরিবহনসহ সর্বত্রই মানুষের কষ্ট বেড়েছে। কর্মজীবী মানুষ বলছেন, ‘গরমে কাজে মন বসছে না। সামান্য হাঁটলেও ঘেমে যাচ্ছি।’
সদর হাসপাতাল সড়কের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে দাঁড়ানো দিনমজুর আয়েশা খাতুন বলেন, ‘সারাদিন রোদে কাজ করি, কিন্তু এই গরমে শরীর আর টানছে না। বাচ্চারাও কষ্ট পাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে স্বস্তি মিলত।’ আরেকজন ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘রোদে ভ্যানে যাত্রী তুলতে গেলে মাথা ঝিম ধরে। একদিকে গরম, অন্যদিকে আয়ও কম। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। বৃষ্টি হলে শরীরে শন্তি লাগলেও টান পরে পকেটে। ভাড়া কম হয়। কিন্তু এই গরমও সহ্য হয় না।’
স্কুল শিক্ষার্থী সামিউল জানান, ভ্যাপসা গরমে ক্লাসে ঠিকমতো মন বসছে না তার। শরীর সারাক্ষণ ঘামে ভিজে থাকে। পড়াশোনা করতেও কষ্ট হয়। শ্রেণিকক্ষের ফ্যান ঠিকমতো কাজ করলেও ভ্যাপসা গরমের কারণে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। গরমে বাইরে খেলাধুলা কারও কঠিন হয়ে গেছে তার।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, চলতি সেপ্টেম্বরে দুদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির পারদ ছুঁয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা না থাকায় তাপমাত্রা বাড়ছে। এই অবস্থা আগামী বুধবার পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা কমবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক