মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনার জিরাট-রামনগরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শত শত মানুষের

৪০ বছরের ভাসমান সেতু এখন মৃত্যুফাঁদ!
  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০৭-২০২৬ ইং
দর্শনার জিরাট-রামনগরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শত শত মানুষের

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জিরাট ও রামনগর গ্রামের মধ্যবর্তী মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ভাসমান লোহার সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপার করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দর্শনার জিরাট ও রামনগর গ্রামের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই ভাসমান সেতু ও নৌকা। সেতুটি ব্যবহার করে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। বিকল্প পথে চলাচল করতে হলে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। ফলে এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ভাসমান সেতুটি।


বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমান্ত নদী মাথাভাঙ্গা ভারতের মুর্শিদাবাদ হয়ে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একসময় এ নদী দিয়ে ছোট-বড় বিভিন্ন নৌযান চলাচল করলেও বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া অধিকাংশ সময় নদীতে পানি কম থাকে। ১৯৮৫ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড ভাসমান লোহার সেতুটি নির্মাণ করে।


জানা যায়, ১৯৮৩ সাল থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ মাথাভাঙ্গা নদীর জিরাট ঘাট ইজারা দিয়ে আসছে। এরও আগে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আখ পরিবহনের কাজে গলাইদড়ি ঘাটে ব্যবহৃত ভাসমান সেতুটি পরে পারকৃষ্ণপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে ভাসমান সেতুটি জিরাটে এনে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য স্থাপন করা হয়।


বর্তমানে ভাসমান সেতু ও নৌকার মাধ্যমে পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। পারাপারে জনপ্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হয়।


জিরাট গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই ভাসমান সেতু দেখে আসছি। দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে অন্তত চারটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।’


দর্শনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তৌফিক রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন এই ভাসমান সেতু দিয়েই কলেজে যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে।’


ভাসমান সেতুর টোল ইজারাদার মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে ঘাটটি মসজিদের নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে। টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।’


স্থানীয়দের দাবি, চুয়াডাঙ্গা অংশে প্রায় ৭২ কিলোমিটারজুড়ে প্রবাহিত মাথাভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে এখনও প্রয়োজনীয় সেতুর অভাব রয়েছে। ফলে অনেক মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত জিরাট-রামনগর এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।



কমেন্ট বক্স
notebook

মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযান