মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও দর্শনায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দর্শনা থানার আকন্দবাড়ীয়ায় ‘ওপেন হাউস ডে, মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা’ এবং দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে ‘মাদককে না বলি, সুস্থ জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। ফকিরপাড়ার সমাবেশে এক মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণ করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন।
দর্শনা থানা-পুলিশ ও আকন্দবাড়ীয়া গ্রামের সর্বস্তরের সচেতন জনগণের উদ্যোগে গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আকন্দবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ওপেন হাউস ডে, মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললেই মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, আলহাজ মশিউর রহমান, দর্শনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন লিটন, থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মাদক নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মুন্না।
এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। দর্শনা থানা পুলিশ জানায়, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অপরদিকে, গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে “মাদককে না বলি, সুস্থ জীবন গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতন যুব সমাজ, ফকিরপাড়া, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা’-এর উদ্যোগে মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। যুবসমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতার সামনে ফকিরপাড়া গ্রামের খোকনের ছেলে আশরাফুল পুলিশ সুপারের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় পুলিশ সুপার তাকে সৎ পথে চলার আহ্বান জানান এবং সমাজের মূল ধারায় ফিরে এসে আইন মেনে জীবনযাপনের সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আজাদ রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইকরামুল হক, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বদর মনি প্রমুখ।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদক