সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার সাবেক দুই এসপিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০৭-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার সাবেক দুই এসপিসহ ৩৩  পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ ক্যাডারের ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক দুই পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. রশীদুল হাসানও রয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।


অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। ২০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগ দেন। সেই হিসেবে গত ৩০ মে তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান এবং ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান বিভিন্ন মেয়াদে চুয়াডাঙ্গা জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তাদের বেশির ভাগকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রাখা হয়েছিল। অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নিজামুল হক মোল্যা। রংপুর রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর কবীর, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. শামসুন্নাহার, অতিরিক্ত ডিআইজি সাইফুল্লাহ আল মামুন ও অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম। রাজশাহীর সারদায় সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, ডিআইজি মইনুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বরকতুল্লাহ খান ও অতিরিক্ত ডিআইজি টি. এম. মোজাহিদুল ইসলাম। চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি জিহাদুল কবির, ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন, ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান ও এসপি (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন। ডিআইজি শ্যামল কুমার নাথ, অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, অ্যান্টি টেরোরিজম সংযুক্ত ডিআইজি মো. জামিল হাসান ও অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম এমরান হোসেন এপিবিএনে সংযুক্ত ছিলেন। খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাজিদ হোসেন। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন খান সংযুক্ত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জে। রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মেহেদুল করিম, অতিরিক্ত ডিআইজি খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ। রংপুর পিটিসিতে সংযুক্ত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসান। আর ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আরেফ।


উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠে। অধিকাংশ ভোট আগের রাতে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিরোধীরা মাত্র সাতটি আসনে জয় পায়। বিরোধিরা সে নির্বাচনের নাম দেয় ‘নিশিরাতের নির্বাচন’। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ক্ষমতায় এসে ভোটের কারচুপির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।



কমেন্ট বক্স
notebook

আন্দুলবাড়ীয়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের মধুমাস উৎসব