রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ

চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি চুক্তি
  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৬-২০২৬ ইং
প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রবিবার প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আজ দুপুরের পর তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি যাবেন চীনে। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরে যাচ্ছেন। এরপর তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর থেকে চীনে যাবেন। চীন সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিনিয়োগের জন্য চীনের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা রয়েছে এবং সেটির কাজও হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। দুই সফরেই প্রতিনিধিদলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমরা এটিকে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। মালয়েশিয়ায় গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজার: মালয়েশিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রসচিব জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের আরো কর্মী নেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করব। তবে মালয়েশিয়া বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার মধ্যে রেখেছে। আমরা আশা করি, এই রিভিউ প্রক্রিয়া শেষ হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে। তিনি জানান, এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংস্কৃতি বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সই হতে পারে। চীন সফরে আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্প: মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগর দালিয়ানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। ২৩ জুন সম্মেলনের সাইডলাইনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ঐদিন বিকালে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি। পরদিন ২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী হাই স্পিড ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকবেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন। ঐদিন বিকালে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক কীভাবে আরো এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করবেন। বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি সই হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। পরদিন ২৬ জুন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। এরপর তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরদিন ২৬ জুন বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। ঐ দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব জানান, সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। তাতে তিস্তা মহাপরিকল্পা ইস্যু আছে। এছাড়া, অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা বিস্তৃত হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ সফরে এ-সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না বলেও জানান তিনি। চীনের প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতির চারটি উদ্যোগের অন্যতম জিডিআই বা বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে কি না, সে প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ রয়েছে। আমরা সফরের পরেই বলতে পারব এগুলোতে যোগ দিচ্ছি বা দিচ্ছি না। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং সম্পর্কে নতুন গতি আনবে। দুই দেশেই সহযোগিতা বৃদ্ধির অনেক ক্ষেত্র আছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ