চুয়াডাঙ্গায় সার্বজনীন পেনশন মেলা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যালি আয়োজন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা তিনটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম আগামী ২৪ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী সার্বজনীন পেনশন মেলার বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
সভায় জানানো হয়, জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে সার্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় ব্যাংক, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জেলার উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন। উদ্যোক্তাদের স্টল বরাদ্দের জন্য আগামী ২১ জুনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া ২৪ জুন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সরকারি কলেজসংলগ্ন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, কর্মশালা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সরকার দেশের সব নাগরিককে আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে পেনশন সুবিধা পেলেও এখন বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহিণীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।
তিনি বলেন, মানুষের কর্মক্ষমতা কমে গেলে বা বার্ধক্যে উপনীত হলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জেলার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে দুই দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মেলায় অংশগ্রহণকারীরা সার্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি বর্ণাঢ্য র্যালি, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফল উৎসবের আয়োজন থাকবে। জেলার উদ্যোক্তারাও তাদের তৈরি পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই। আজকের সঞ্চয়ই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সার্বজনীন পেনশন কর্মসূচি মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার সাগর দে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাঈফ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপনসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক