আলমডাঙ্গায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার নওদাবন্ডবিল কবরস্থান সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি চাইনিজ কুড়াল, একটি হাসুয়া, রশি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোবা কাচারিপাড়া গ্রামের তেফাজ্জেল হোসেনের ছেলে সুজন আলী ওরফে সুজন শেখ (৩৫), কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাকিলাদহ গ্রামের মৃত জামাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৫) এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর বোয়ালদহ গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিন সর্দ্দারের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মাদক, চোরাচালান ও ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলমডাঙ্গা থানার এসআই শোভন কুমার কুন্ডু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত্রীকালীন মোবাইল ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটির একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওদাবন্ডবিল কবরস্থান সংলগ্ন পূর্ব পাশে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এসময় ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে ২১ ইঞ্চি ও ২৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি চাইনিজ কুড়াল, ৩৩ ইঞ্চি লম্বা কাঠের বাটযুক্ত একটি লোহার হাসুয়া, একটি মোটর, একটি পাখি ভ্যান, প্রায় ২০ হাত নাইলনের রশি এবং একটি সিমেন্টের বস্তা উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতি প্রস্তুতির ঘটনায় আরও পাঁচজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা অফিস