দর্শনার ছোটশলুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগে আতিয়ারসহ ১৮ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. জাফর আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা জীবননগর পেয়ারাতলা থেকে পরিবারের লোকজন নিয়ে ছোটশলুয়া গ্রামস্থ মোশারফের বাড়িতে মৌতের খানা খেতে যাই। পরে একই গ্রামে মো. আতিয়ারের কন্যার সাথে আমার ভাইয়ের ছেলের বিয়ের পরবর্তী সময়ে তার কন্যা আমার ভাইয়ের ছেলের সাথে সংসার করতে অস্বীকার করায় বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য আমরা সকলেই আতিয়ারের বাড়িতে যাই। আমরা তার বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই আতিয়ার ও তার স্ত্রী, ছেলে আকস্মিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু লোকজন ডেকে দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ধারালো দা ও হাসুয়া নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের ছেলে ইমরানকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। তখন আমাদের সাথে থাকা মহিলাদের গায়ে থাকা প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। মারধরের একপর্যায়ে আমার ভাগ্নে আব্বাস আলী (১২)-কে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে এবং আমাদের অন্য একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে। এসময় তারা দরজার বাইরে থেকে আমাদের হত্যার হুমকি দিতে থাকে। তখন মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯-এ কল দিয়ে উদ্ধারের আবেদন করলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে। পরে ওই দিন রাতেই দর্শনা থানায় তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এজাহারে নাম রয়েছে- তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া গ্রামের কুমিল্লাপাড়ার আতিয়ার (৪৬) রুম্মান (২০), সারজিনা চম্পা (৩৯), রহমান, বলদিয়া গ্রামের মো. আলামিন (৩০), বেগমপুর হাটপাড়ার মামুন (৫০), মফিজুল (৪৭), অন্তর (৩০), আব্দুল কাদের (৩২), ছোটশলুয়া গ্রামের আকছেদ (৫২), মানিক (২৮), শাহীন (২৪), তুষার ইমরান (২৫), প্রিন্স (২৩), কুদ্দুস (৪০), আশিকুজ্জামান চঞ্চল (২৩), ইসলাম (২০), মতিন (৪০) ও বাপ্পি (২২)।
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)