অপারেশন মাঝপথে বন্ধ রেখে চিকিৎসক চলে যাওয়া, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার নিয়ম-নীতি না মানার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত ‘নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম এই আদেশ প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ জুন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রপুর নতুন গ্রামের শরীফ উদ্দীনের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন নামে এক রোগীর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অস্ত্রোপচার শুরু করেন রিচার্ড সরেন নামের এক চিকিৎসক। একপর্যায়ে অপারেশন অসমাপ্ত রেখেই অভিযুক্ত চিকিৎসক চলে যান। পরে রোগীকে মূমূর্ষ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে রোগীর পরিবার। এ ঘটনায় গত ১০ জুন দৈনিক সময়ের সমীকরণে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের।
তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মৃত আজিজুল হকের ছেলে আক্তারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং নগদ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই সাথে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টঐ্ঋচঙ) ডা. মো. মশিউর রহমান।
ডা. মো. মশিউর রহমান জানান, ‘আমরা জানতে পারি গত ৫ই জুন হরিশ্চন্দ্রপুর নতুন গ্রামের মুসলিমা খাতুন নামের এক রোগী জরাযু টিউমার অপারেশনের জন্য এই ক্লিনিকে ভর্তি হোন। রিচার্ড সরেন নামের একজন ডাক্তার অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তারের অনুপস্থিতিতেই নিজেই অপারেশন করার জন্য নিজেই অজ্ঞান করে স্পাইনাল এনেসথেসিয়া দিয়ে অপারেশন করার সময় যখন এবডুমেন ওপেন করে, তখন এনেসথেটিক জটিলতার সম্মুখীন হোন। এ বিষয়ে গুরুত্বর অনিয়ম এবং অভিযোগের সমস্ত জিনিস অবৈধ ঘোষণা করে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা ও লাইসেন্স বাতিলসহ অন্যন্য যে প্রসিডিউর আছে, সেগুলোর জন্য সুপারিশ আমরা করব।’
এ বিষয়ে মোবাইল কোর্টের নেতৃত্বদানকারী দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন আলম জানান, ক্লিনিক ল্যাব, ডায়াগনস্টিক সেন্টার সমস্ত কিছু দেখার পর যে মান বা স্ট্যান্ডার্ড থাকার কথা একটি ক্লিনিকের, তার কোনোটিই ফুল ফিল করেনি ক্লিনিক কৃর্তপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিক বন্ধ থাকবে। যেহেতু একজন রোগীর জীবন তারা হুমকির মুখে ফেলেছিল, এর আগেও তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেয়নি। এ জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় তাদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক