বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
ওঝার ঝাড়ফুঁকে চার ঘণ্টা সময় কাটানোর অভিযোগ

গাংনীতে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ০৮-০৬-২০২৬ ইং
গাংনীতে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাপের কামড়ে অসুস্থ এক কৃষককে হাসপাতালে না নিয়ে দীর্ঘ সময় কথিত ওঝার ঝাড়ফুঁক ও অপচিকিৎসার কাছে রাখার পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত কৃষকের নাম মাহতাব উদ্দীন। তিনি উপজেলার হিজলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত সামসূল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকালে ধানের চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ করছিলেন মাহতাব উদ্দীন। এসময় একটি গোখরা সাপ তাকে দংশন করে। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে পাশের চৌগাছা গ্রামের এক কথিত ওঝার কাছে নিয়ে যান।


অভিযোগ রয়েছে, সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক, মন্ত্রপাঠ ও আগুনের তাপ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসা চালানো হয়। তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় ধানখেত থেকে ধরা গোখরা সাপটিও সঙ্গে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহতাব উদ্দীনকে মৃত ঘোষণা করেন।


মাহতাব উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ওঝার কথায় বিশ্বাস করে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।


এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও এমন ধারণা রয়েছে যে, সাপে দংশনের পর হাসপাতালে গেলে সাপটিকে সঙ্গে নিতে হয় বা সাপের পরিচয় দিতে না পারলে চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এ ধরনের ভুল ধারণার কারণে অনেকেই আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে ওঝা-কবিরাজের শরণাপন্ন হন। তবে রোগীর মৃত্যুর পরও সংশ্লিষ্ট কথিত ওঝা দাবি করেন, তারা রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল না।


গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ হাসান বলেন, সাপে দংশনের পর একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হলো দ্রুত হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম গ্রহণ করা। ওঝা বা কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।



কমেন্ট বক্স
notebook

আসছে ৫ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন