বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ‘আত্মহত্যা প্রবণতা হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় ডিসি

বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ আত্মহত্যার অন্যতম কারণ
  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০৬-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ‘আত্মহত্যা প্রবণতা হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় ডিসি

চুয়াডাঙ্গায় ‘আত্মহত্যা প্রবণতা হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরিচালিত An Investigation of Socio-Economic and Psychological Factors of Suicide in Bangladesh: Toward Evidence-Based Policy Development  শীর্ষক গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা আত্মহত্যা-প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ৮ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে জেলায় প্রায় ১০০টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রীষ্মকালে এ প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়।


তিনি বলেন, আত্মহত্যার পেছনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক নানা কারণ রয়েছে। ঋণের বোঝা, পারিবারিক অশান্তি, হতাশা, অসুস্থতা, একাকিত্ব, সামাজিক মানহানির ভয় এবং পারিবারিক অবহেলা অনেককে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েও মানুষ চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।


জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের মধ্যে হতাশা ও আবেগগত অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্কুল-কলেজে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহও আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পরিবার ভাঙনের কারণে অনেক শিশু ও কিশোর মানসিক সংকটে পড়ছে। আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং ক্ষণিকের অভিমান থেকেও অনেকেই আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। জেলার আত্মহত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত ছয় মাসে ডিসেম্বর মাসে ১১টি, জানুয়ারিতে ১৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি, মার্চে ১৭টি, এপ্রিলে ২২টি এবং মে মাসে ২১টি আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গবেষণায় আবহাওয়া ও জনসংখ্যার ঘনত্বের সঙ্গেও আত্মহত্যার প্রবণতার সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


কর্মশালায় আত্মহত্যা বিষয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর অংশগ্রহণকারীদের ছয়টি দলে ভাগ করা হয়। এই দলগুলোকে আলাদা আলাদা আত্মহত্যা কেন্দ্রিক নিদৃষ্ট বিষয়ের ওপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে ‘টিম উন্মেষ’ এর প্রেজেন্টেশন সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রনি মৃধার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।


উন্মুক্ত আলোচনায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, স্মার্টফোন আসক্তি বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যা। এর ফলে পরিবারে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার, নৈতিক শিক্ষা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখা গেলে আত্মহত্যার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি সামাজিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় উগ্রতাও হ্রাস পাবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা সমন্বিতভাবে পালন করতে হবে।


কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিএম তারিক-উজ-জামান সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।



কমেন্ট বক্স
notebook

আসছে ৫ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন