আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা প্রতীকী প্রতিবাদের অবসান ঘটেছে বর্তমান অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে। মাত্র একটি ফ্যান না থাকাকে কেন্দ্র করে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় বিভাগের কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুমে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে কলেজে বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয়। ওই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম ছরোয়ার মিঠুর অপসারণ ঘটে। আন্দোলনের সময় নানা চাপ ও মানসিক সংকটের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার জটিল অস্ত্রোপচার হয়। প্রায় তিন মাস চিকিৎসা শেষে তিনি আবার কলেজে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কক্ষে ফ্যান বা এসি থাকলেও তার বিভাগীয় কক্ষে কোনো ফ্যান ছিল না। এ অবস্থায় প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি চার বছর ধরে বিভাগীয় কক্ষে না বসে শিক্ষক কমনরুমে বসে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মফিজুর রহমান দ্রুত ফ্যান স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আমিরুল ইসলাম জয় বলেন, ‘অভিযোগ নেই, আছে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। বর্তমান অধ্যক্ষ স্যার শেষ পর্যন্ত আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ‘আয়না ঘর’ নামে পরিচিত অমানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।’
নিজস্ব প্রতিবেদক