দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে কার্পাসডাঙ্গার নজরুল স্মৃতিবিজড়িত আটচালা কুঁড়েঘরের সামনে নজরুলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেখান থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়ে মিশন স্কুলে শেষ হয়। পরে আলোচনা মঞ্চে নজরুল স্মৃতিচারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তী উৎসবের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা ও অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশÑ দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের উপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ১৯২৬ সালে কার্পাসডাঙ্গার মিশন পাড়ার সন্তান কলকাতা প্রবাসী মহিম সরকারের আমন্ত্রণে কবি সপরিবারে তাঁর বাড়িতে আসেন এবং দুই মাসকাল অবস্থান করেন। বাঙালি খ্রিস্টান শিক্ষক, স্বদেশী ও কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা শ্রী হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের বাড়ির উঠানে প্রতিষ্ঠিত এই আকর্ষণীয় আটচালা ঘরটি ছিল তখনকার রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্রামাগার। কবি এই আটচালা ঘরে বহু রজনী কাটিয়েছেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গোপন রাজনৈতিক বৈঠক করেছেন। নজরুল তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তাই আজ তাঁর স্মরণে এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ. দা.) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম। তিনি বলেন, 'গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিনহাজ উল ইসলাম, জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার (জেলা শিল্পকলা একাডেমি) সাইফুল ইসলাম মিলন, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব সেলিম, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও বর্তমানে আটচালা ঘরের বসবাসরত প্রকৃতি বিশ্বাস বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. জাহিদুল ইসলাম ও খন্দকার নুসরাত জাহান পরবী।
উল্লেখ্য, ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের ২য় দিন আজ রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন এবং সমাপনী দিনে আগামীকাল সোমবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (এমপি)।
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)