আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
তিন দিনের ব্যবধানে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে এবার আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নদীর কচুরিপানার নিচে মরদেহটি পচে ফুলে ওঠার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। গত সোমবার একই জায়গা থেকে অপর এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিন দিনের ব্যবধানে দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন টার্গেট করে এই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামবাসী পচা দুর্গন্ধ পেয়ে নদীর পাড়ে ভিড় জমাতে থাকে। গ্রামবাসী পানিতে নেমে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পায় এবং তারা পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে তার পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। সেখানে রাতিকান্ত জয়ধর (৪৬), পিতা দেবেন্দ্র নাথ জয়ধর, গ্রাম পোলাটানা, ভাংগারহাট, কোটালিপাড়া গোপালগঞ্জ ঠিকানা আছে। ওসি জানান, পাসপোর্টের ব্যক্তিটি উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় কি না তা পরে জানা যাবে। মরদেহ উদ্ধারের পরে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, অজ্ঞাত মরদেহটি বাংলাদেশের ১০ গজ অভ্যন্তরে ইছামতী নদীতে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিন চারদিন আগের মরদেহ এটি। পানির নিচে পচে ফুলে উঠেছে মরদেহটি। উপুড় অবস্থায় মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় ছিল। মহেশপুর থানা লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই জায়গায় ইছামতী নদীর পাড় থেকে অপর এক অজ্ঞাত যবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিজিবির একটি টহল দল সীমান্তে টহলরত অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মরদেহটি পড়ে ছিল। কিন্তু এখনো উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় মেলেনি।
ঝিনাইদহ অফিস