মেহেরপুরের গাংনীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের চিৎলা গ্রামের রিফুজী পাড়ায় হামিদুল ইসলামের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চিৎলা গ্রামের হামিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী সুন্নত আলী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে খাসজমির কিছু অংশ দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এর আগে একাধিক ঘটনায় হামিদুলদের পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলায় সুন্নত আলীর পরিবারের কয়েকজনের ছয় মাসের কারাদণ্ডও হয়েছিল বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে সুন্নত আলী, তার স্ত্রী নাজমিনা, ছেলে মিলন, মমিন, অমি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন মিলে হামিদুল ইসলামের বাড়িতে আবারও হামলা চালায়। এ সময় তারা বাড়ির প্রাচীর ও বাথরুম ভাঙচুর করে এবং বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালায়। এতে হামিদুল ইসলামের স্ত্রী ও তার ভাইয়ের ছেলে আহত হন।
হামিদুলের বড় বোন ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী হামিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বাড়ির পাশের সামান্য একটু খাসজমি নিয়ে বিরোধ চলছে। যে জমিতে আমার প্রাচীর রয়েছে। বিষয়টি আদালতে ৪৫ ধারায় মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত সুন্নত আলীদের প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছে। হামিদুল বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত। আদালত আমাকে কখনো বলেনি যে প্রাচীর ভেঙে নিতে। কিন্তু প্রতিপক্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গায়ের জোরে বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং নারী-শিশুদের আহত করেছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি গাংনী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, তিনি বাইরে থাকায় অভিযোগ সম্পর্কে এখনো অবগত নন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক গাংনী