মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালত থেকে ফেরার পথে দুই ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও ঘটনার ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল আদালতে হাজিরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধলা বাজারে পৌঁছালে মিয়ারুল ইসলাম (৪২) ও তার ভাই হাসারুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হুসাইন ও তার সহযোগীরা। হামলাকারীরা রামদা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাদের গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের কুষ্টিয়া হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা ধলা গ্রামের দিনমহম্মদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের দাদা মৃত আলম জীবিত অবস্থায় ৮ বিঘা জমি দিনমহম্মদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সেই জমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন মিয়ারুল ও হাসারুল। অন্যদিকে, অবশিষ্ট জমি অন্য ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, হুসাইনসহ অন্যান্য ওয়ারিশরা ওই ৮ বিঘা জমির ভাগ দাবি করলে মিয়ারুল ও হাসারুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর জেরে পূর্বেও হাসারুলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং এ ঘটনায় হুসাইনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় এক মাস কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী শেফালী খাতুন জানান, থানায় গেলেও মামলা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ৭ দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি।
তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে এখন কোনো পুরুষ নেই। হুসাইন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা ছোট ছোট সন্তান নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।” হাসারুল ইসলামের স্ত্রী ফেরোজা খাতুনও একই ধরনের অভিযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হুসাইন এলাকায় প্রভাবশালী ও দুঃসাহসিক প্রকৃতির হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। এর আগেও সে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত হুসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ সদস্য শিমুল জানান, লিখিত অভিযোগ তাদের কাছে রয়েছে এবং মামলা রেকর্ড করা হবে। গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার বলেন, “মামলাটি রেকর্ড প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
প্রতিবেদক গাংনী