চুয়াডাঙ্গা জীবননগর ও দর্শনা, মেহেরপুরের গাংনী ও ঝিনাইদের মহেশপুরের বজ্রপাতে স্কুলছাত্র, যুবক ও গৃহবধূসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে।
দর্শনা:
দামুড়হুদায় বজ্রপাতে মারা গেছে স্কুলছাত্র আজিম উদ্দীন (১৪)। সে উপজেলার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে এবং দর্শনা মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে মাঠে বাবাকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানায় তার পরিবার। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
আজিমের বাবা তাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেটি আমাকে খাবার দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়। সে ‘আব্বা’ বলে একবার ডাক দিয়েই মাটিতে পড়ে যায়।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর পারকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জীবননগর:
জীবননগরে তামাকের খড়ি গোছানোর সময় বজ্রপাতে রাসেল হোসেনে (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মৃত রেজাউলের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান সেখ। জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন রাসেল। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক নাফিসা আনজুম হিমু জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বিকেলে রাসেল হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল।
গাংনী:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা ভাটপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে জার্জিস রহমান (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জার্জিস রহমান ওই গ্রামের মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জার্জিস রহমান নিজ জমিতে কলার বাগানে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জার্জিস রহমানের মৃত্যু হয়। গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মহেশপুর:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মিজানুর রহমান পিলুর স্ত্রী।
পুলিশ ও গৃহবধূর স্বজনরা জানান, দুপুরে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে রোজিনা গরুকে খাবার দিতে গোয়াল ঘরে গেলে পাশের একটি নারকেল গাছে বজ্রপাত হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেশী রমজন আলী বলেন, বজ্রপাতে নারকেল গাছটির গায়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে। মহেশপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জেনেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদক