আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
রমজান মাস সামনে রেখে ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি থাকলেও বেগুন, শসা, ক্ষিরা ও বাতাবি লেবুর দাম চড়া। তবে চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে ছোলা, বুট ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। জেলার অধিকাংশ বাজারে শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের নতুন হাটখোলা ও ওয়াপদা কাঁচা বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা শহর ও বড় বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ওয়াপদা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২৯ টাকা কেজি ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, কদু ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, করোলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ শহরের নতুন হাটখোলার ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, গত সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে রমজান মাস শুরুর আগের দিনই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
সবজি ছাড়াও রমজান মাসে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলা/বুট ও লেবুর দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ভেদে খেজুরের দাম ৩৫০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি। এছাড়া লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানিকৃত ছোলা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
হেনা খাতুন নামে ক্রেতা বলেন, রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যেতো, এবার সেরকম চিত্র দেখছি না। গত রমজানেও মানুষ বাজারে স্বস্তি পেয়েছে। আশা করবো, নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
উপ-শহরপাড়ার আব্দুর রাকিব জানান, লেবু, শসা, বেগুন ও করলার দাম বেশি বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এক হালি লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।
ঝিনাইদহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। গত এক বছরে আমরা বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। সবজির বাজার, মুরগী ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এতে বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছি।
ঝিনাইদহ অফিস