মুজিবনগর উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলনের আশা করছেন। দাম ঠিক থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুজিবনগর এলাকায় সাধারণত ইন্ডিয়ান জাতের ‘সুখসাগর’ পেঁয়াজের চাষ বেশি হয়ে থাকে। তবে চলতি বছর সুখসাগরের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন অনেক কৃষক।
কৃষকদের ভাষ্য, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং রোগবালাই দমনে সচেতনতার কারণে এখন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক হয়ে উঠছে। কম জমিতে বেশি ফলন পাওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে। আনন্দবাস গ্রামের কৃষক লিজন বলেন, তিনি প্রতিবছর ৭ থেকে ৮ বিঘা জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ করেন। চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে পাওয়া বীজ দিয়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করেছেন। তাঁর মতে, এ পেঁয়াজ চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি। লাভ ভালো হলে ভবিষ্যতে সুখসাগরের পরিবর্তে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ বাড়াবেন বলেও জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানান, মুজিবনগরের কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে বেশ আগ্রহী হলেও এতদিন মূলত সুখসাগর জাতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। সারাবছর পেঁয়াজের ঘাটতি কমাতে কৃষি বিভাগ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। তিনি আরও জানান, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্য ‘নাসিক এন-৫৩’ জাতের বীজ বিনামূল্যে তিন হাজার কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ বীজে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে। দাম ঠিক থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
চলতি মৌসুমে মুজিবনগর উপজেলায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণের ফলে মুজিবনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুজিবনগর অফিস