যান্ত্রিক কৃষির দাপটে যখন গ্রামবাংলার চিরচেনা গরুর নাঙ্গল হারিয়ে যেতে বসেছে, তখনও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঐতিহ্য আগলে রেখেছেন ইলাই শাহ্। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের মৃত পচা শাহ্-এর ছেলে ইলাই শাহ্ (৬৫) আজও গরু দিয়ে জমি চাষ করে কৃষির প্রাচীন ধারা টিকিয়ে রেখেছেন।
বর্তমান সময়ে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের দাপটে মাঠ-ঘাট যখন যন্ত্রনির্ভর, তখন ইলাই শাহ্ প্রতিদিন গরুর নাঙ্গল কাঁধে নিয়েই নামেন জমিতে। তার কাছে এটি কেবল চাষাবাদের একটি পদ্ধতি নয়; বরং পৈতৃক ঐতিহ্য ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলাই শাহ্ বলেন, ‘গরু দিয়ে জমি চাষ করলে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয় না। জমির উর্বরতা বজায় থাকে এবং ফসলের জন্য মাটি হয় বেশি উপযোগী।’
তিনি আরও জানান, আধুনিক যন্ত্রে চাষ করতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেশি। অপরদিকে গরু দিয়ে চাষ তুলনামূলকভাবে কম খরচে করা যায় এবং এটি পরিবেশবান্ধব। এতে যেমন মাটির ক্ষতি কম হয়, তেমনি কৃষকের আর্থিক চাপও অনেকটাই লাঘব হয়।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসা কৃষির এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিকে ইলাই শাহ্ আজও জীবন্ত করে রেখেছেন। তার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার কৃষি সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মোমেন বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরু দিয়ে হাল চাষ পদ্ধতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে এখনো দু-একজন ইলাই শাহ্-এর মতো মানুষ এই প্রাচীন চাষ পদ্ধতি ধরে রেখেছেন, যা আমাদের কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মুজিবনগর অফিস