মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুর মুক্ত দিবসে স্মৃতির আবহ, বীরদের শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক ও আলোচনা সভা

মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায় যুদ্ধের স্মৃতি, একতার আহ্বান
  • আপলোড তারিখঃ ০৭-১২-২০২৫ ইং
মেহেরপুর মুক্ত দিবসে স্মৃতির আবহ, বীরদের শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক ও আলোচনা সভা

নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মেহেরপুর মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ‎‎এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে মেহেরপুর কলেজ মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধাগণ, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়সহ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নেন।


এসময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীরের নেতৃত্বে কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। ‎পরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


এদিকে, মেহেরপুর মুক্ত দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুল আলম সোনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‎‎প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।


প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহিল সাফি, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল মামুন ও চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৬ ডিসেম্বর এলেই স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই বীরত্বগাঁথা দিনটি। মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আজকের মুজিবনগর- এই জেলা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কালের পরিক্রমায় মেহেরপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের যে আশা-আকাক্সক্ষা ছিল, তার সবটুকু আজও পূরণ হয়নি। বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছি। ৬ ডিসেম্বর মেহেরপুরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং এখান থেকেই সারা বাংলাদেশে মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশ একযোগে মুক্ত হয় এবং আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি।’


তারা বলেন, ‘আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত হই, যখন দেখি- যে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের মাঝে পরবর্তী সময়ে দলাদলি ও বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। যুদ্ধের সময় আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ বা ধর্মীয় বিভাজন ছিল না। সেনাবাহিনীতে কর্মরত মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের জন্য ছিল মুক্তির প্রেরণা। তাঁর আহ্বানে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে বাঙালি সেনারা বিদ্রোহ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের তরুণরা অস্ত্র হাতে দেশকে মুক্ত করার সংকল্প নেয়।


বক্তারা আরও বলেন, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মধ্যদিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নতুন গতি ও সার্থকতা পায়। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়করণের অপচেষ্টা দেখা যায়, যা দুঃখজনক। আমরা কোনো দলের বা ব্যক্তির স্বার্থে যুদ্ধ করিনি; যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী