আনসার ও ভিডিপির মেহেরপুরের বামন্দী ইউনিয়ন দলনেত্রী নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমিতি, চাকরি ও প্রশিক্ষণের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসে গাংনী উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুরুন্নাহার বিভিন্ন অজুহাতে সমিতির সদস্যপদ, ঋণের ব্যবস্থা, আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও কোনো রসিদ দেননি এবং প্রতিশ্রুত কোনো সুবিধাও প্রদান করেননি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাতে ঘুরাতে থাকেন, এমনকি অনেক সময় হুমকি ও অপমানজনক আচরণও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব প্রতারণার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং মানসিকভাবেও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী নারী সানোয়ারা খাতুন বলেন, ইউনিয়ন আনসার দলনেত্রী নিজেকে বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা নিয়েছে। কখনো সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে, কখনো পাস বই ধরিয়ে দিয়ে সমিতির কথা বলে টাকা তুলেছে। আমি নিজেও অনেকের কাছ থেকে তার কথামতো টাকা তুলে তার হাতে দিয়েছি। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাটাও ফেরত পাচ্ছি না। এখন গ্রামের মানুষ আমাকে অপমান করে, কারণ সেই সমিতির সভা আমাকেই করতে হয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে আনসার অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি।
একই গ্রামের রাহিমা খাতুন বলেন, নুরুন্নাহার আমাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে প্রতি সপ্তাহে টাকা সংগ্রহ করতেন। তিন মাস পর তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে যান। প্রশিক্ষণও হয়নি, টাকাও ফেরত দেননি। আমরা এখন চরম বিপাকে পড়েছি। অভিযোগ প্রসঙ্গে বামন্দি দলনেত্রী নুরুন্নাহার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। আমি কারো কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিই নাই।’ গাংনী উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে মেহেরপুর জেলা কমান্ডেন্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদক গাংনী