মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী- এই তিন উপজেলার ৩০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা বিদ্যালয় বন্ধ রেখে ক্লাস ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বিদ্যালয়ে গেলেও গেটে তালা ঝুলানো দেখতে পায়। শিক্ষকরা তাদের ফিরিয়ে দেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল জানায়, ‘পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম। এসে দেখি ক্লাসে তালা। খুব খারাপ লাগছে।’ বামুন্দি এলাকার অভিভাবক সোহেল রানা বাবু বলেন, ‘পড়াশোনার মান আগেই ভালো নয়। এখন আবার পরীক্ষার সময় তালাবন্দি! আন্দোলন করতে হলে অন্য সময়ও করতে পারত। আমরা কয়েকজন অভিভাবক সিদ্ধান্ত নিয়েছি- বিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
শিক্ষক মেহেরুন নেছা (ময়না) জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নেই। কেন্দ্রীয় চার নেতাকে শোকজ করায় বাধ্য হয়েই তারা কঠোর কর্মসূচিতে গেছেন। গাংনী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ সাজ্জাদ রাজা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নিয়েছি। কিন্তু আজ ক্লাসরুমে তালা থাকায় পরীক্ষা নিতে পারিনি।’
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসএম জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে তালা দেওয়া সরকারি নিয়মবিরোধী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করা যায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা আইনসঙ্গত নয়- এটা শিক্ষকদের ভাবা উচিত।’
প্রতিবেদক গাংনী