সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুরে ছয় গ্রামের কৃষকদের মানববন্ধন

ফসলি জমি জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৯-২০২৫ ইং
মেহেরপুরে ছয় গ্রামের কৃষকদের মানববন্ধন

ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের দাবিতে মেহেরপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন ছয় গ্রামের শতাধিক কৃষক। আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গাংনী উপজেলার তেরাইল, মহব্বতপুর, বাদিয়াপাড়া, কামারখালি, ষোলটাকা ও সহড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন বামুন্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো।


তিনি বলেন, ‘তেরাইল, মোহাম্মদপুর ও ষোলটাকা-তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন চাষাবাদ পুরোপুরি বন্ধ। জলাবদ্ধতার কারণে মাঠের ফসল ডুবে গেছে। আমরা প্রশাসনকে আগেও জানিয়েছি। তখন জলাবদ্ধতা কম ছিল, এখন তা বাড়তে বাড়তে মাঠ ছেড়ে গ্রাম পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে। গ্রামের রাস্তাঘাটও পানিতে তলিয়ে গেছে।’ 


তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তার পাশ দিয়ে থাকা ক্যানালগুলো হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে বা পুকুর কাটার কারণে ভরাট হয়ে গেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত নজর দিয়ে ক্যানালগুলো খনন ও সংস্কার করে, তাহলে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।’ 


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা বলেন, বহু বছর ধরে পানি নিষ্কাশনের সঠিক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি মৌসুমেই হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ধান, পাট, শাকসবজি—সব ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।


ষোলটাকা ইউনিয়নের কৃষকরা বলেন, সাত-আটটি গ্রামের ফসলি জমিতে আশপাশের সব গ্রামের পানি এসে জমে থাকে। কোথাও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে সারা বছরই পানি আটকে থাকে।

অপর একজন কৃষক বলেন, ‘বড় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা পুকুর কাটার জন্য ক্যানাল বন্ধ করে ফেলেছে। এই ক্যানাল বন্ধ করাই মূলত জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। জমিতে চাষ করতে না পেরে অনেক পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। গবাদিপশুর খাবারেও সংকট দেখা দিয়েছে।’ 


কৃষকদের দাবি, অন্তত তিন থেকে পাঁচ হাজার বিঘা জমি বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে। সময়মতো পানি না সরলে আসন্ন মৌসুমে গম, ভুট্টা কিংবা রবিশস্যের কোনো ফসল চাষ করা যাবে না। এতে কৃষকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মানববন্ধরে অংশ নিয়ে এক বক্তা বলেন, ‘প্রতিবছর ফসলহানির ফলে আমরা ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে এতগুলো গ্রামের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হবে।’ এদিকে, মানববন্ধন শেষে কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। 




কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী