রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল

জাপার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে
  • আপলোড তারিখঃ ৩১-০৮-২০২৫ ইং
ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতীয় পার্টি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সকল অপকর্মের সহযোগী। ১৯৮৪ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত তারা স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে দেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলেছিল। জুলাই বিপ্লবেও তারা ছাত্রজনতার পক্ষে ছিল না। দেশে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড যেহেতু নিষিদ্ধ, তাই জাতীয় পার্টির কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


সাবেক ভিপি নূরুল হক নুরুর উপর হামলা ও জাপা নিষিদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান নুরুর ওপর হামলাকে ন্যাক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হাসিনা ও তার অনুগতদের ওপর মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর রাগ রয়েছে। এসব করণে মানুষ তাদের আক্রোশ মেটাচ্ছে। এটাকে মব বলা যাবে না। তিনি বলেন, সরকার এসব কার্যক্রম সমর্থন করে না। যেখানেই এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে সেখানেই আইনশংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছুটে যাচ্ছে।


অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া এই বাংলাদেশ এক যুগসন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমরা জীবন দিয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে কোনো দুর্নীতিবাজকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। আমরা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই।


শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পতিত সরকারের আমলে বেসরকারি স্কুল কলেজে কীভাবে নিয়োগ হয়েছে তা সবাই জানে। নিয়োগের নামে কারা টাকা নিয়েছে আপনারা প্রকাশ করুন। আমরা সব দুর্নীতিবাজদের মাটি খুড়ে বের করে আনার চেষ্টা করবো।


অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেন, ব্রিটেনে গণতন্ত্র ফেরাতে স্বৈরশাসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছিল বলেই আজ সেখানে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ বিরাজমান। ১৬৪৯ সালে ব্রিটিশ রাজা চার্লস প্রথমকে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল স্বৈরশাসক অলিভার ক্রমওয়েল। তার বিচারের জন্য “রেজিসাইড কোর্ট” গঠিত হয়েছিল।


তদন্তে চার্লস হত্যার অন্যতম মূল কারিগর হিসেবে অলিভার ক্রমওয়েলের নাম সামনে আসে। যদিও তিনি তখন মৃত, তবুও প্রতীকী ন্যায়বিচারের জন্য তার লাশ কবর থেকে তোলা হয়। ১৬৬১ সালের জানুয়ারিতে ক্রমওয়েল, বিচারক জন ব্র‍্যাডশ এবং ক্রমওয়েলের জামাতা সেনানায়ক হেনরি আয়রটনের মরদেহ খুঁড়ে বের করা হয়। ১৬৬১ সালের ৩০ জানুয়ারি ওয়েস্টমিনস্টার হলের টাইনবার্নে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফাঁসির পর মাথা কেটে আলাদা করা হয় এবং ওয়েস্টমিনস্টার হলের উপরে প্রদর্শন করা হয়। এটা দেখে সেখানে আর কোন ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরশাসক জন্ম হয়নি।


ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবু বকর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এস, এম আমানুল্লাহ, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড এম এ মজিদ, জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাখওয়াত হোসেন বক্তব্য দেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত