মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার অলিনগর গ্রামে সাধু সংঘের নামে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার আক্তার ও হাবিবা নওসীন দাবি করেছেন, তাদের সরকারি নিবন্ধিত ‘মা সাধনা দুঃস্থ নারী কল্যাণ সংস্থা’র অফিস ও জমি প্রতিপক্ষ সিরাজুল ইসলাম ও মিরাজুল ইসলাম জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত সংস্থার নামে একটি সমিতি চলমান থাকলেও প্রতিপক্ষরা সাইনবোর্ডের লেখা মুছে তার উপরে “দরবার শরীফ” লিখে দেন এবং অফিস ও বাড়ি দখল করে নেন।
নুরুন্নাহার আক্তার জানান, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সিরাজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি গাংনী থানায় জি.আর. মামলা নং-২৪৪/২০২২ দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ সিরাজুল ইসলাম সাধু বেশে অসাধু ভণ্ড মুরিদদের নিকট থেকে দরবার চালুর মিথ্যা স্বাক্ষর সংগ্রহ করছে। গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে অলিনগরে কয়েকজন ভণ্ড মুরিদের নিয়ে সাধু সংঘ করার চেষ্টা হলেও সেখানে প্রকৃত কোনো দরবার শরীফ চালু নেই। প্রকৃতপক্ষে ক্রয়কৃত দলিলি সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে প্রয়াত মদন মাস্তানের দরবারের নামে ভুয়া কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে দাবি নুরুন্নাহারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মদন মাস্তান কাতলামারি গ্রামে বসবাস করতেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। অলিনগরে তার কোনো মাজার বা দরবার শরীফ নেই। স্বাক্ষরকারী রামদেবপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, আমাকে ধোঁকা দিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামে একজন স্বাক্ষর নিয়েছে, অথচ মদন মাস্তান কাতলামারিতেই ছিলেন ও সেখানেই মারা যান।
নুরুন্নাহারের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষরা নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করছে। বর্তমানে তিনি প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবুও হুমকি-ধমকি, অপমান ও মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, অলিনগরে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে “মা সাধনা দুঃস্থ নারী কল্যাণ সংস্থা” নামে একটি বড় সাইনবোর্ড ছিল। সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা তা মুছে ফেলে “দরবার শরীফ” নামে নতুন বোর্ড টানিয়েছে। এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক গাংনী