মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের ইজিবাইক চালক জামাল হোসেন হত্যা মামলার একমাত্র আসামি বাচ্চু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ এস এম নাসিম রেজা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি বাচ্চু মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু মিয়া সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মেহেরপুর সদর উপজেলার নতুন শেখপাড়া এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে জামাল হোসেনের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মেহেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ শোলমারী গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে বাচ্চু মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ। মামলার অভিযোগপত্র, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আসামি বাচ্চু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইদুর রাজ্জাক এবং আসামি পক্ষে এহান উদ্দিন মনা আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেন। আদেশ ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। জামাল হত্যার বিচার পেয়ে তার পরিবার স্বস্তি পাবে বলে আশা করছি।’ অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা বলেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
প্রতিবেদক মেহেরপুর