মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা পাটবীজ খামারে দুর্নীতি, দখলদারি ও সরকারি সম্পদ লুটের তথ্য প্রকাশ করায় স্থানীয় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ চক্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করতে না পেরে তাদের হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে চক্রটি। মামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন- মাহাবুল ইসলাম ও এস এম ফয়েজ। মাহাবুল ইসলাম দৈনিক দেশতথ্য বাংলা ও সময়ের সমীকরণ-এর গাংনী প্রতিনিধি এবং গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য। অন্যদিকে এস এম ফয়েজ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-এর ক্রাইম রিপোর্টার।
গত সোমবার দৈনিক ‘সময়ের সমীকরণ’-এ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চিৎলা সরকারি পাটবীজ খামারে চলমান অনিয়ম, সম্পদ লুটপাট, শ্রমিক হয়রানি ও একটি প্রভাবশালী চক্রের দাপট তুলে ধরা হয়। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার চক্রটির সদস্য নাজিম, বকুল ও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মিলে মাহাবুল ও ফয়েজের বিরুদ্ধে গাংনী আমলি আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই মামলা হয়েছে খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী কানন বলেন, ‘যে সাংবাদিক সাহস করে দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেছেন, তাকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো ন্যাক্কারজনক। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।’ এমনকি অতীতে এস এম ফয়েজ চিৎলা খামারের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করায় তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক মাহাবুল ইসলাম জানান, প্রতিবেদন প্রকাশের আগের দিন মামলার বাদী বকুল তাকে সংবাদটি না করতে অনুরোধ করেন এবং সন্ধ্যায় কফি হাউজে দাওয়াত দেন। কিন্তু তিনি সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে সংবাদটি প্রকাশ করেন। ‘এরপরই তারা প্রতিশোধ নিতে এই মিথ্যা মামলা করে’- বলেন মাহাবুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘চিৎলা পাটবীজ খামারে যোগদানের পর থেকে জেডি মোর্শেদুল ইসলামের নেতৃত্বে নাজিম উদ্দিন, বাঁশবাড়িয়ার বকুল, জাব্বার, সালাম, মুছা এবং জুগিন্দার কাদা মিলে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে তুলেছে। সরকারি গাছ, পাইপ, ভবন, উৎপাদন, সব লুটে নিচ্ছে তারা।’ মাহাবুল দাবি করেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পরের দিন শ্রমিক শফিকুল ইসলাম তার গ্রামের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি দেন।
চিৎলা পাটবীজ খামারের চলমান লুটপাট, দখলদারি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন।
প্রতিবেদক গাংনী