মেহেরপুরে পুলিশের সোর্স আব্দুর রাজ্জাককে কুপিয়ে ও গলাকেটে খুন
মেহেরপুর অফিস: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মেহেরপুরে আব্দুর রাজ্জাক (৪১) নামের একজনকে জবাই করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শহরের শিশুবাগানপাড়ার পৌর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পিছনের মাঠে তাকে হত্যা করা হয়। সে শহরের শিশুবাগানপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ্জাক ও গাংনীর সাব্বির হোসেন ঘটনাস্থলে গল্প করছিল। এসময় কয়েকজন যুবক এসে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এক সময় সে মাটিতে লুটিতে পড়লে তাকে গলাকেটে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। এসময় সাব্বির হোসেন পালিয়ে রাজ্জাকের বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। তবে হত্যাকান্ডের পর থেকে সাব্বির হোসেনকেও পাওয়া যাচ্ছেনা। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে লাশ উদ্ধার করেছে। তার শরীরের একাধিক জায়গায় কোপানোর দাগ রয়েছে। সে পাসপোর্ট অফিসের দালালি ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করত বলে জানান এলাকাবাসী।
নিহতের স্ত্রী সীমা খাতুন জানান, শনিবারের দিন সাব্বির ও মিলন নামের দুইজনকে গাঁজাসহ আটক করে ডিবি পুলিশ। রবিবার জামিনে মুক্তি পেলে তাদের কারাগার থেকে নিয়ে আসতে যায় আব্দুর রাজ্জাক। সন্ধ্যার সময় সাব্বিরকে নিয়ে মাঠে গল্প করছিল তারা। এমন সময় চারজন এসে এলোপাতাড়িভাবে রাজ্জাককে কোপাতে থাকে। এ সময় সাব্বির পালিয়ে গিয়ে তার স্ত্রীকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। নিহতের ছোট ভাই ওয়াসিম সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই এলাকার মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম পুলিশকে অবহিত করার কারণেই মাদক সেবনকারীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
মেহেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম নিহত রাজ্জাক পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো বলে নিশ্চিত করেছেন। মেহেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিকল্পিতভাবেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।