অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও ফান্ডের অর্থ তছরূপের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নাসির দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পুরোপুরি অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও কলেজের সার্বিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে।
স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস ধরেই কলেজে অনিয়মিত অধ্যক্ষ আবু নাসির। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর গত সেপ্টেম্বর মাসে একদিন হঠাৎ কলেজে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পেছনের একাধিক দিনের ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করেন তিনি। তবে এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি আর প্রতিষ্ঠানে পা রাখেননি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, আত্মগোপনে থেকেই কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে গ্রুপিং করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে অধ্যক্ষ আবু নাসির ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইউসুফ হাসান।
অধ্যক্ষের এই দীর্ঘ আত্মগোপন ও অনুপস্থিতির মাঝেই কলেজে শেষ হয়েছে একাদশ ও ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম। শেষ হয়েছে দ্বাদশ শ্রেণির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা। একাডেমিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সময়ে কলেজের প্রধান অভিভাবক অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীগণ।
কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শিখা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিজের একাডেমিক সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি টানা কয়েকদিন ধরে কলেজে গেছেন। কিন্তু অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি ও চরম অবহেলার কারণে তার সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক স্বাক্ষর ও সনদের অনুমোদনের জন্য এসে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন।
অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মৌখিক নোটিশ দিয়ে গেছে বিদ্যুৎ কর্মীরা। এদিকে অভিযোগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম। সম্প্রতি ব্যাকডেটে জালিয়াতি করে বাংলা বিভাগে আরলিজা নামের একজন প্রভাষককে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন অধ্যক্ষ আবু নাসির। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত শিক্ষকও অধ্যক্ষের মতোই কলেজে আসেন না।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক লেনদেন এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ফান্ড ও শিক্ষার্থীদের জমা রাখা ফি আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অনিয়মের তদন্ত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়াতেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অধ্যক্ষ আবু নাসিরের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন জালিয়াতি, দীর্ঘ আত্মগোপন এবং অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা