সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শরীফুজ্জামানের উদ্যোগে বাস ও ইজিবাইক মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত

১ নভেম্বর থেকে সড়কে গাড়ি আটকাতে পারবেন না শ্রমিকেরা
  • আপলোড তারিখঃ ১২-১০-২০২৬ ইং
শরীফুজ্জামানের উদ্যোগে বাস ও ইজিবাইক মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত

চুয়াডাঙ্গায় বাস ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল নিয়ে বিরোধ নিরসনে সড়কে গাড়ি আটকানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কেউ সড়কে বাস, অটোরিকশা, ইজিবাইক বা অন্য কোনো যানবাহন আটকাতে পারবেন না। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানবাহন চলাচল তদারকির দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে বাস, ট্রাক, অটোভ্যান ও রিকশার মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।


সম্প্রতি বাস ও ইজিবাইক চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে সড়ক অবরোধ, মারধরের অভিযোগ ও যানজটের ঘটনা ঘটে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সড়কে কোনো যানবাহনের চলাচল নিয়ে আপত্তি বা বিরোধ দেখা দিলে শ্রমিকেরা নিজেরা বাধা দেবেন না। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে আলুকদিয়ার দিকে যাওয়ার পথে দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসময় ইজিবাইকে থাকা রোগীর স্বজন রাজু মাস্টারের সঙ্গে পরিবহনসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


এর প্রতিবাদে পরে আলুকদিয়া এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। এতে চুয়াডাঙ্গা শহর থেকে আলুকদিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। রাজু মাস্টার অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে চার দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। সাড়ে ১১টার ট্রেন ধরতে ছেলেকে নিয়ে ইজিবাইকে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
পথে কয়েকজন তাঁদের গাড়ি থামিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে কলার ধরে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন রাজু মাস্টার। তাঁকে ঘরে আটকে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত বাসশ্রমিক সবুজের দাবি, ইজিবাইকটি আলুকদিয়ার দিকে যাওয়ার পথে দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে থামানো হয়েছিল। গাড়িতে রাজু মাস্টার, তাঁর অসুস্থ ছেলে ও আসমানখালির আরও দুজন যাত্রী ছিলেন। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর অন্য দুই যাত্রীকে নেমে যেতে বলা হয়। এসময় রাজু মাস্টারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় বলে জানান তিনি।


চুয়াডাঙ্গা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি হাসান ইমরান বকুল বলেন, এক উপজেলার ইজিবাইক অন্য উপজেলায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল করতে পারবে না- আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।


জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য মোটরশ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে। সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সড়কে কোনো লাঠিয়াল বাহিনী থাকতে পারবে না। সড়ক হবে নির্বিঘ্নে চলাচলের জায়গা। সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


তিনি আরও বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাসান ইমাম বকুল ও সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন মুক্তা, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল কালাম, জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম, আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আল-বেল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পরিবহন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অটো মালিক-চালক সমিতির নেতারাও সভায় অংশ নেন।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, যানবাহন চলাচল নিয়ে বিরোধের সমাধান আইনানুগভাবে করা গেলে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। তবে সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ



কমেন্ট বক্স
notebook

খাল খনন ও অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবিতে দামুড়হুদার পীরপুরকুল্লায় মানববন্ধন